আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক জন মিয়ারশেইমার সম্প্রতি এক বিশ্লেষণে দাবি করেছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা পুরোপুরি পরাজিত হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করলেই বোঝা যায় মার্কিন প্রশাসন তাদের ঘোষিত চারটি মূল লক্ষ্যের একটিও অর্জন করতে পারেনি।
ওয়াশিংটনের লক্ষ্য ছিল ইরানে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন (রেজিম চেঞ্জ), পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচি নির্মূল এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন বন্ধ করা। কিন্তু বাস্তবে এর কোনোটিই সফল হয়নি।
মিয়ারশেইমার উল্লেখ করেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরান যে অবস্থানে ছিল, বর্তমান পরিস্থিতি তাদের জন্য তার চেয়েও অনেক বেশি সুবিধাজনক। বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ আগের চেয়ে অনেক শক্তিশালী হয়েছে, যা তাদের হাতে এক বিশাল কৌশলগত সুবিধা (অ্যাডভান্টেজ) তুলে দিয়েছে। ইরানের হাতে এখনো বিপুল পরিমাণ ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোনের মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে তারা মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরায়েলসহ এই অঞ্চলের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুকে যেকোনো সময় আঘাত করতে সক্ষম।
এই পরাজয়ের সবচেয়ে বড় প্রমাণ হিসেবে মিয়ারশেইমার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাম্প্রতিক এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টকে চিহ্নিত করেছেন। ৬ এপ্রিল রাতে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন যে, তারা ইরানের দেওয়া ১০ দফা পরিকল্পনা ধরে আলোচনা করবেন। মিয়ারশেইমারের মতে, ইরানের দেওয়া শর্তে আলোচনায় বসার সম্মতি দেওয়া মানেই হলো পরোক্ষভাবে নিজেদের হার স্বীকার করে নেওয়া।
তিনি আরও সতর্ক করেন যে, এটি কেবল আমেরিকার হার নয়, বরং ইসরায়েলের জন্য এটি এক মহাবিপর্যয় বা ‘ক্যাটাস্ট্রফিক’ পরাজয়। ইসরায়েলি নীতিনির্ধারকরাও বুঝতে পারছেন যে পরিস্থিতির মোড় তাদের প্রতিকূলে চলে গেছে। ভবিষ্যতে ইসরায়েল বা পশ্চিমারা যদি ইয়েমেন, লেবানন বা ফিলিস্তিনে নতুন করে সামরিক আগ্রাসন চালাতে চায়, তবে ইরান খুব সহজেই তার পাল্টা জবাব দিতে পারবে। হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেওয়া বা চলাচলের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের মতো শক্তিশালী অস্ত্র এখন তেহরানের হাতে, যা দিয়ে তারা যেকোনো সময় পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ নিজেদের পক্ষে নিতে পারবে।

