মীর ইমরান- মাদারীপুর প্রতিনিধি:
মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে আলোচিত ‘হাতুড়ি বাহিনী’র প্রধান ও একাধিক মামলার আসামি মাজহারুল শেখ (৪০)-কে যৌথ অভিযানে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ও র্যাব। তার গ্রেফতারের খবরে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে রাজৈর থানা প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজৈর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। গ্রেফতারকৃত মাজহারুল শেখ উপজেলার পশ্চিম রাজৈর এলাকার নজরুল শেখের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে মাদারীপুরসহ বিভিন্ন জেলায় চাঁদাবাজি, ছিনতাই, মারধর, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও হামলার অভিযোগে অন্তত ৮টি মামলা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম জানান, মাজহারুল দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী চক্র গড়ে তুলে ‘হাতুড়ি বাহিনী’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং চাঁদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক প্রভাব ও সুবিধাভোগী মহলের আশ্রয়ে থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে চলার চেষ্টা করতেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মে সন্ধ্যায় রাজৈর বাজার এলাকায় সাবেক ইউপি সদস্য ও প্রবাসী জাহাঙ্গীর খানের পথরোধ করে মাজহারুলের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে জাহাঙ্গীর খানের ওপর প্রকাশ্যে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা হাতুড়ি দিয়ে তার দুই পা, পিঠ, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রকাশ্য বাজারে এমন নৃশংস হামলার ঘটনায় রাজৈরসহ আশপাশের এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি ওঠে।
এ ঘটনায় আহত জাহাঙ্গীর খানের স্ত্রী বাদী হয়ে গত ৩১ মে রাজৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি রাজৈর থানার মামলা নং-৪৩ হিসেবে নথিভুক্ত হয়। মামলার তদন্তভার পান এসআই ফরিদুজ্জামান। তদন্তের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে চারজন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় ব্যবহৃত একটি হাতুড়িও উদ্ধার করা হয়।
মামলার পর থেকেই প্রধান অভিযুক্ত মাজহারুল আত্মগোপনে চলে যায়। তাকে গ্রেফতারে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাতে থাকে। একপর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৪-এর সহায়তায় জামালপুর সদর এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত মাজহারুলকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তদন্তের স্বার্থে তার বিরুদ্ধে আরও কোনো অভিযোগ বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে মাজহারুলের গ্রেফতারের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী, বাজার কমিটির সদস্য এবং সাধারণ মানুষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা আশা করছেন, এ গ্রেফতারের মাধ্যমে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।
রাজৈর থানার ওসি শেখ আমিনুল ইসলাম বলেন,অপরাধী যে-ই হোক, আইনের আওতায় আনা হবে। রাজৈর উপজেলায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

