২০২৬ এর ফিফা বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে পর্তুগালকে। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হারের পরপরই বড় সিদ্ধান্ত নিলেন দলটির প্রধান কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্তিনেজ জানান, পর্তুগালের দায়িত্বে এটাই ছিল তাঁর শেষ ম্যাচ। তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়েই তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্য পূরণ না হওয়ায় দায়িত্বে থেকে যাওয়ার কোনো অর্থ দেখছেন না। এছাড়া তাঁর চুক্তির মেয়াদও বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার দিনই শেষ হয়েছে।
২০২৩ সালের শুরুতে পর্তুগালের দায়িত্ব নিয়েছিলেন স্প্যানিশ এই কোচ। তাঁর অধীনে দলটি বেশ কিছু ভালো ফল করলেও ইউরো ও বিশ্বকাপ—দুই বড় আসরেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। শক্তিশালী স্কোয়াড, অভিজ্ঞ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ব্রুনো ফার্নান্দেস, বের্নার্দো সিলভা, ভিতিনিয়া ও রাফায়েল লিয়াওদের নিয়েও বিশ্বকাপের শেষ ষোলো পেরোতে না পারায় সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি।
স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। দীর্ঘ সময় গোলশূন্য থাকার পর যোগ করা সময়ে মিকেল মেরিনোর একমাত্র গোলে জয় তুলে নেয় স্পেন। সেই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই শেষ হয় পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযান।
বিদায়ের ঘোষণায় মার্তিনেজ বলেন, পর্তুগালের মানুষের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সমর্থন পেয়েছেন, তা তিনি কখনো ভুলবেন না। এই দায়িত্ব পালন করাকে তিনি নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় সম্মান বলেও উল্লেখ করেন।
এদিকে ম্যাচটি আরও একটি কারণে আলোচনায় এসেছে। ৪১ বছর বয়সী অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, এটিই ছিল তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ইউরো শিরোপা, নেশনস লিগ জয়সহ অসংখ্য অর্জনের পর বিশ্বকাপ ট্রফির স্বপ্ন অপূর্ণই রয়ে গেল পর্তুগিজ মহাতারকার।
মার্তিনেজ সংবাদ সম্মেলনে রোনালদোর ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, তিনি শুধু গোলদাতা নন, দলের ড্রেসিংরুমে একজন অসাধারণ নেতা। মাঠ ও মাঠের বাইরে তাঁর অবদান পর্তুগাল ফুটবলে দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এখন পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ নতুন কোচ নির্বাচন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে ইতোমধ্যেই কয়েকজন অভিজ্ঞ কোচের নাম আলোচনায় এসেছে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোচের নাম ঘোষণা করা হয়নি।
মার্তিনেজের বিদায়ের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের পর আরেকটি জাতীয় দল কোচ পরিবর্তনের পথে হাঁটল। বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় বিভিন্ন দেশের ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যেই নিজেদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কাজ

