শহীদুজ্জামান শিমুল, সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরায় জেলা প্রসাশনের বেঁধে দেওয়া “ম্যাংগো ক্যালেন্ডার” অনুযায়ী আম সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৫ মে) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নের শিমুলবাড়িয়া আমচাষী রফিকুল ইসলামের আম বাগান থেকে আম সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক ভাবে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) বিষ্ণুপদ পাল।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্ত, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন প্রমুখ।
এর আগে গত ২৬ এপ্রিল নির্ধারিত সময় মেনে গাছ থেকে আম সংগ্রহ ও এবং গুণগত মান বজায় রেখে বাজারজাত নিশ্চিত করতে কৃষকদের পরামর্শে জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সাতক্ষীরা ম্যাংগো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করা হয়।
সজেলা প্রশাসনের ঘোষিত ‘ম্যাংগো ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাস জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। আগামী ১৫ মে থেকে বাজারে আসবে সুগন্ধি হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি আম সংগ্রহ করা হবে।
উদ্বোধনের পরপরই জেলা জুড়ে শুরু বাগান থেকে আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করণের ব্যস্ততা।
আমচাষী রফিকুল বলেন দীর্ঘদিন ধরে এই সময়টির জন্য আমদের অপেক্ষা করতে হয়। এবার গাছে ফলন ভালো হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আমের মৌসুমটি লাভজনক হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষি বিভাগ জানায়, নির্ধারিত সময় মেনে আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় ফলের স্বাভাবিক পরিপক্বতা বজায় থাকবে, যা বাজারে সাতক্ষীরার আমের সুনাম ধরে রাখতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে অপরিপক্ব ও রাসায়নিকযুক্ত আম বাজারজাত ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
প্রশাসনের ক্যালেন্ডারের নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া বা বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, মৌসুমে জেলায় ৬ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে ৭ হাজারেরও বেশি বাগানে প্রায় ১৪ হাজার আমচাষী চাষাবাদ করেছেন। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ হাজার মেট্রিক টন সংগ্রহ করা যাবে তিনি আরও জানান, শুধু দেশীয় বাজারেই নয়, সাতক্ষীরার আম এখন ইউরোপসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাজারেও পৌঁছাবে । চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
মৌসুমের শুরুতেই বাজারে সাতক্ষীরার আম আসায় খুশি ক্রেতারাও। আগাম আমের স্বাদ নিতে বাজারে বাড়ছে ভিড়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্ধারিত সময় মেনে সংগ্রহ ও বাজারজাত নিশ্চিত করা গেলে কৃষকসহ সংশ্লিষ্টরা লাভবান হবেন।
মৌসুমের সূচনাতেই সাতক্ষীরার আম নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। গুণগত মান বজায় রেখে এ ধারা অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের আম আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


