আজ (২৯ জুলাই) বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে জাতীয় লিপস্টিক দিবস। এটি কোনো সরকারি ছুটির দিন না হলেও সৌন্দর্যচর্চা, ফ্যাশন ও প্রসাধনী শিল্পে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এ উপলক্ষে বিশ্বের বিভিন্ন প্রসাধনী প্রতিষ্ঠান নতুন লিপস্টিক বাজারে আনে, মূল্যছাড় দেয় এবং নানা প্রচারমূলক আয়োজন করে। শুধু সাজগোজের উপকরণ নয়, লিপস্টিক এখন আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব ও নিজেকে প্রকাশের অন্যতম প্রতীক হিসেবেও পরিচিত।
লিপস্টিকের ইতিহাস প্রায় পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো। ইতিহাসবিদদের মতে, প্রাচীন মেসোপটেমিয়ায় নারীরা গুঁড়ো করা মূল্যবান পাথর দিয়ে ঠোঁট রাঙাতেন। প্রাচীন মিসরে লাল ঠোঁট ছিল সৌন্দর্য ও সামাজিক মর্যাদার প্রতীক, যেখানে নারী-পুরুষ উভয়েই ঠোঁটে রং ব্যবহার করতেন। বিখ্যাত রানি ক্লিওপেট্রাও প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি লাল রঙের ঠোঁটের প্রসাধনী ব্যবহার করতেন বলে ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। পরে গ্রিস ও রোমেও এর প্রচলন ছড়িয়ে পড়ে।
আধুনিক বাণিজ্যিক লিপস্টিকের যাত্রা শুরু হয় ১৮৮৪ সালে কাগজে মোড়ানো অবস্থায়, আর ধাতব টিউব আবিষ্কারের পর এটি আরও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের দৈনন্দিন সৌন্দর্যচর্চার অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে লিপস্টিক। চলচ্চিত্র, ফ্যাশন ও বিজ্ঞাপনের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে লিপস্টিক বিশ্বব্যাপী ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে।
সব রঙের মধ্যে লাল লিপস্টিক এখনো সবচেয়ে জনপ্রিয়। সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞদের মতে, লাল রং আত্মবিশ্বাস, শক্তি ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। তবে বর্তমানে গোলাপি, বাদামি, প্রবাল, বেগুনি এবং ত্বকের রঙের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিভিন্ন শেডের লিপস্টিকও সমানভাবে জনপ্রিয়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, লিপস্টিক কেনার সময় শুধু রং নয়, পণ্যের মান ও উপাদানের দিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ত্বকের সঙ্গে মানানসই রং নির্বাচন, ঠোঁটের আর্দ্রতা বজায় রাখে এমন লিপস্টিক ব্যবহার, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী এড়িয়ে চলা এবং অন্যের ব্যবহৃত লিপস্টিক ব্যবহার না করাই নিরাপদ। পাশাপাশি দিনের শেষে লিপস্টিক ভালোভাবে পরিষ্কার করে ফেলারও পরামর্শ দেওয়া হয়।
হাজার বছরের বিবর্তনের ধারায় লিপস্টিক আজ কেবল সাজসজ্জার উপকরণ নয়; এটি ফ্যাশন, সংস্কৃতি, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। তাই জাতীয় লিপস্টিক দিবস শুধু একটি প্রসাধনীকে ঘিরে উদযাপন নয়, বরং সৌন্দর্যচর্চার দীর্ঘ ইতিহাস ও বিবর্তনেরও স্বীকৃতি।

