দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করে আসছে খ্রিস্টান জায়নবাদী গোষ্ঠী। বিশেষ করে রিপাবলিকান রাজনীতি এবং ইসরাইলপন্থী নীতির ক্ষেত্রে এদের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত শক্তিশালী। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ রক্ষণশীল ও ইভানজেলিক্যাল খ্রিস্টানদের মধ্যে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন কমে যাওয়ায় এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে খ্রিস্টান জায়নবাদীরা বিশ্বাস করে, যিশু খ্রিস্টের পুনরাগমনের পূর্বশর্ত হিসেবে ফিলিস্তিনে ইহুদিদের পুনর্বাসন এবং শক্তিশালী ইসরাইল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা জরুরি। এই ধর্মীয় বিশ্বাসের ভিত্তিতেই যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় ‘বাইবেল বেল্ট’ এলাকায় বিশাল জনসমর্থন গড়ে ওঠে। দীর্ঘদিন ধরে এ গোষ্ঠী রিপাবলিকান পার্টির গুরুত্বপূর্ণ ভোটব্যাংক হিসেবেও বিবেচিত হয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা তরুণ প্রজন্মের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পরিবর্তন এনেছে। আগে যেখানে বিপুলসংখ্যক তরুণ ইভানজেলিক্যাল ইসরাইলকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সমর্থন করতেন, এখন তাদের বড় অংশ মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, তরুণ ইভানজেলিক্যালদের মধ্যে ‘প্রি-মিলেনিয়ালিজম’ বা যিশুর পুনরাগমনের তত্ত্বে বিশ্বাসের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে ইসরাইলকে নিঃশর্ত সমর্থনের প্রবণতাও আগের তুলনায় দুর্বল হয়ে পড়েছে। তরুণদের একাংশ এখন ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল অবস্থান নিচ্ছেন।
তবে জনমত পরিবর্তিত হলেও ওয়াশিংটনে খ্রিস্টান জায়নবাদী সংগঠনগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব এখনো শক্তিশালী। ইসরাইলপন্থী বিভিন্ন লবিস্ট সংগঠন মার্কিন নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে এবং ইসরাইলের জন্য সামরিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, তরুণ প্রজন্মের এই পরিবর্তিত মনোভাব ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যনীতি ও ইসরাইল-সম্পর্কিত রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধর্মীয় ব্যাখ্যার পরিবর্তে মানবাধিকার ও নৈতিকতার প্রশ্ন এখন তরুণদের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

