সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সাত সদস্যের একটি ‘কিচেন কেবিনেট’ সক্রিয় ছিল। তিনি জানান, এই গ্রুপটি প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করত এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখত।
একটি গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সরকারের ভেতরে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সীমিত অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তাঁদের মতামতকে উচ্চপর্যায়ে গুরুত্ব দেওয়া হতো।
তৌহিদ হোসেন আরও জানান, তিনি নিজের পদ থেকে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তবে তা গ্রহণ করা হয়নি। তার মতে, সরকারের উচ্চপর্যায়ে বিষয়টি অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে—এই কারণেই তাকে থেকে যেতে অনুরোধ করা হয়।
তিনি দাবি করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় “ডিপ স্টেট” সক্রিয় ছিল কি না—এ বিষয়ে তার ভাষ্য, বিশ্বের প্রায় সব বড় রাজনৈতিক ঘটনার পেছনেই এমন কাঠামোর সম্পৃক্ততা থাকে, যা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত বা নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করে।
সাবেক এই উপদেষ্টা আরও বলেন, ভোটের মাত্র কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে, সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। বিষয়টি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে রাজনীতিতে ফিরে আসতে পারে এবং আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সম্ভাবনাও রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যৎ সরকারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে।

