শাহরিয়ার কবির, পাইকগাছা, খুলনা প্রতিনিধি:
অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও জামায়াতের এমন আগাম তৎপরতা এলাকায় নতুন রাজনৈতিক আলোচনা ও নির্বাচনী উত্তাপ তৈরি করেছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা এবং ১০ ইউনিয়নের মধ্যে ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে। ঘোষণার পর থেকেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজ নিজ এলাকায় গণসংযোগ, মতবিনিময় ও সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করেছেন। দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গেও নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন তারা।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা পাইকগাছা ১০টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ। নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না এলেও রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। তবে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সংগঠিতভাবে মাঠে নামতে দেখা গেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে।
দলীয়ভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য আলহাজ্ব মাওলানা আমিনুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মাওলানা কামাল হোসেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে সাবেক উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও পৌর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি শাহানারা খাতুনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভার মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে জামায়াত নেতা অ্যাডভোকেট মোর্তজা জামান আলমগীর রুলুর নাম।
ইউনিয়ন পর্যায়েও একে একে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। হরিঢালী ইউনিয়নে মুফতি মাওলানা আব্দুল হান্নান, কপিলমুনিতে মাওলানা বুলবুল আহমেদ, দেলুটিতে গোলাম মোস্তফা, সোলাদানায় হাফেজ মাওলানা নুরে আলম, লস্করে মাওলানা সাঈদুর রহমান, গদাইপুরে আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাড়ুলিতে সহকারী অধ্যাপক আব্দুল মোমিন সানা, চাঁদখালীতে মাওলানা আসগর হোসাইন ওরফে জাহাঙ্গীর এবং গড়ইখালীতে প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমানের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এখনো লতা ইউনিয়নে কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়নি বলে জানা গেছে।
জেলা জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা গোলাম সরোয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রার্থীরা ইতোমধ্যে মাঠে কাজ শুরু করেছেন।”
উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাঈদুর রহমান বলেন, “এখনো নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়নি। কিন্তু জনগণের পাশে থাকতে ও সাংগঠনিক কার্যক্রম সচল রাখতে আমরা আগাম প্রস্তুতি নিয়েছি। প্রার্থীরা এলাকায় ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে কাজ করছেন।
গদাইপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন গড়ে তুলতে চাই। ইউনিয়নের প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।”
মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহানারা খাতুন বলেন, “আমি পূর্বেও দায়িত্ব পালন করেছি। মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা পেয়েছি। আশা করছি জনগণ আবারও কাজ করার সুযোগ করে দেবেন।
এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগাম প্রার্থী ঘোষণা ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয়তা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পাইকগাছার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অন্য রাজনৈতিক দলগুলো এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করায় জামায়াতের এই আগাম প্রস্তুতি নির্বাচনী আলোচনায় বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।

