চলমান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে টুর্নামেন্ট থেকে প্রায় বিদায়ের মুখে ঠেলে দিয়েও শেষ পর্যন্ত চরম হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মিশরকে। ম্যাচের সিংহভাগ সময় ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও, শেষ ১৩ মিনিটের ঝড়ে টানা তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে হেরে শেষ ষোলো (রাউন্ড অব সিক্সটিন) থেকেই বিদায় নেয় আফ্রিকার এই পরাশক্তি।
তবে নাটকীয় এই ম্যাচ শেষে রেফারিংয়ের তীব্র সমালোচনা করে বিশ্ব ফুটবলের ওপর ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর দাবি, ম্যাচের সব গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত সিদ্ধান্তই উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আর্জেন্টিনার পক্ষে গেছে।ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
‘সবকিছুই টাকার খেলা, মেসিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা’
ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে হোসাম হাসান বলেন, “সবকিছুই টাকার খেলা। তারা চায় লিওনেল মেসি টুর্নামেন্টে টিকে থাকুক। ফুটবলে মাঠের বাইরেও স্বার্থের কারণে অনেক কিছু ঘটে, যা ঘটেছে তা সম্পূর্ণ অন্যায্য। মিশরেরই পরের পর্বে ওঠা উচিত ছিল। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে আজ আমরাই ছিলাম সেরা দল।”
ভীষণভাবে হতাশ এই কোচ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলো তিনি আর বিন্দুমাত্রও দেখতে চান না। হাসানের ভাষায়, “আমি দেশে ফিরে যাচ্ছি এবং বিশ্বকাপের আর কোনো ম্যাচ দেখব না। আমাদের সঙ্গে যা হয়েছে, তা মোটেও ন্যায়সঙ্গত নয়। আমরা একটি নিশ্চিত পেনাল্টি পাওয়ার কথা ছিল, অথচ আমাদের একটি বৈধ গোলও বাতিল করা হয়েছে। কেন বাতিল করা হলো, আমি জানি না।”
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে দুটি বড় সিদ্ধান্ত মিশরের বিপক্ষে যায়, যা ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে বড় ভূমিকা রাখে:
১. গোল বাতিল (৬২তম মিনিট): ম্যাচের ৬২তম মিনিটে মিশরের মোস্তফা জিকো আর্জেন্টিনার জালে বল পাঠালেও ভিএআর (VAR) পর্যালোচনার পর বিল্ডআপে ফাউলের অজুহাতে গোলটি বাতিল করেন রেফারি।
২. পেনাল্টি প্রত্যাখ্যান ও পাল্টা গোল: ম্যাচের শেষ দিকে মিশরের হামদি ফাথিকে আর্জেন্টিনার ডি-বক্সে ফাউল করা হলে পেনাল্টির জোরালো আবেদন জানায় মিশর। কিন্তু রেফারি তাতে সাড়া দেননি। উল্টো সেই আক্রমণ থেকেই কাউন্টার-অ্যাটাকে (পাল্টা আক্রমণ) গিয়ে যোগ করা সময়ে (ইনজুরি টাইম) জয়সূচক গোলটি তুলে নেয় আর্জেন্টিনা।
হোসাম হাসান বলেন, “আমাদের গোলগুলো হয়তো নিজেদের ভুল থেকে হয়েছে, কিন্তু সবচেয়ে বড় ভুল করেছেন যারা সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্বে (রেফারি ও অফিশিয়াল) ছিলেন। আমরা যা প্রাপ্য ছিল, তা পাইনি।”
ম্যাচজুড়ে রক্ষণাত্মক কৌশলের বদলে শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার ওপর চড়াও হয়ে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছিল মিশর। প্রথমার্ধে গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইরের একের পর এক অসাধারণ ‘সেভ’ আর্জেন্টিনাকে গোলবঞ্চিত রাখে এবং মিশরকে ২-০ ব্যবধানের লিড এনে দেয়।
হারের তীব্র কষ্ট থাকলেও নিজের শিষ্যদের এমন লড়াকু মানসিকতায় গর্ব প্রকাশ করে মিশরীয় কোচ বলেন, “আমাদের বেশিরভাগ খেলোয়াড়ই মিশরের ঘরোয়া লিগে খেলে, যেখানে প্রতিপক্ষ দলের ফুটবলাররা ইউরোপের পেশাদার পরিবেশে খেলেন। তারপরও মোহামেদ সালাহ ও ওমর মারমুশ ছাড়া প্রায় পুরোপুরি দেশীয় লিগের খেলোয়াড়দের নিয়ে আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের সাথে সমানতালে লড়েছি। এতে আমি খুবই সন্তুষ্ট।”
সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি অন্যায্য পরাজয় একদম পছন্দ করি না। তবে সমর্থকদের বলব, দয়া করে হতাশ হবেন না। ছেলেরা তাদের পরিকল্পনা দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে।”
বিশ্বকাপে মিশরের এই বিদায় যেমন ফুটবলপ্রেমীদের স্তব্ধ করেছে, তেমনি রেফারিং নিয়ে হোসাম হাসানের এই বিস্ফোরক মন্তব্য ২০২৬ বিশ্বকাপের বিতর্ককে আরও উস্কে দিল।

