মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দক্ষিণ ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এর জেরে উপসাগরীয় দেশগুলো এবং মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগ (এমডব্লিউএল) উদ্বেগ ও নিন্দা জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়ার দাবি করলেও, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরান এখনও আঞ্চলিকভাবে কার্যকর হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রেখেছে। স্যাটেলাইট চিত্র ও ভিডিও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জর্ডান, বাহরাইন ও কাতারে থাকা কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার চিহ্ন দেখা গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাহরাইনে মার্কিন নৌবাহিনীর ফিফথ ফ্লিট সদর দপ্তর এবং কাতারের আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে দৃশ্যমান ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সামনে এসেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এসব হামলা ইঙ্গিত দেয় যে সাম্প্রতিক মার্কিন বিমান অভিযান সত্ত্বেও ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি।
এর আগে টানা কয়েক রাত ধরে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের বিভিন্ন শহর, গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং কৌশলগত স্থাপনায় মার্কিন বাহিনী বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। বন্দর আব্বাস, বন্দর খামির, কেশম দ্বীপ ও সিরিক এলাকায় চালানো ওই হামলায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রগুলো দাবি করেছে।
এর জবাবে ইরান কুয়েত ও সিরিয়ার আল-তানফ এলাকায় মার্কিন সামরিক কমান্ড সেন্টার এবং সরবরাহ ঘাঁটিতে হামলার দাবি করেছে। তেহরানের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে কিছু সামরিক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যদিও এসব দাবির স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ইরানের হামলার পর কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত পৃথক বিবৃতিতে ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে একে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক আইনের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে মুসলিম ওয়ার্ল্ড লিগও আক্রান্ত দেশগুলোর নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থন জানিয়ে উত্তেজনা প্রশমনের আহ্বান জানিয়েছে।
আক্রান্ত দেশগুলোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মাঝ আকাশেই প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। পাশাপাশি সম্ভাব্য যেকোনো নতুন হামলা মোকাবিলায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

