মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফেরানোর লক্ষ্য নিয়ে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে বসতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের দ্বিতীয় দফার বৈঠক। এই সম্ভাব্য সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের নূর খান বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশালাকৃতির তিনটি সি-১৭ গ্লোবমাস্টার পরিবহন বিমান অবতরণ করেছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, জার্মানি ও স্পেনের বিমানঘাঁটি হয়ে আসা এই বিমানগুলো উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সাপোর্ট বহন করছে।
নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডি মার্কিন প্রতিনিধিদের আগমনের খবরে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ইসলামাবাদের গুরুত্বপূর্ণ রেড জোন এলাকা সাধারণ যানচলাচলের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
রাওয়ালপিন্ডির পুলিশ প্রধানের নির্দেশে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং শহরজুড়ে ৬০০টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকের নিরাপত্তায় সব ধরনের সরকারি ও ব্যক্তিগত পরিবহন পরিষেবা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতা ও হরমুজ সংকট গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের আমন্ত্রণে গত ৮ এপ্রিল দুই পক্ষের মধ্যে একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এর আগে ১০ ও ১১ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হলেও তাতে স্থায়ী সমাধান আসেনি।
বিশেষ করে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের তেহরান সফরের পর ইরান সাময়িকভাবে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করলেও, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের প্রতিবাদে সেটি আবারও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমান আলোচনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো এই নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে স্থিতিশীলতা ফেরানো।
দুই পক্ষের অবস্থান ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, আলোচনায় কিছুটা অগ্রগতি হলেও মৌলিক বিষয়গুলোতে এখনো বড় ব্যবধান রয়েছে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসলামাবাদের এই দ্বিতীয় দফার আলোচনা কেবল মধ্যপ্রাচ্যের জন্য নয়, বরং বিশ্ব তেলের বাজার ও বৈশ্বিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সম্ভাব্য উপস্থিতি এই আলোচনার গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

