যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মাসব্যাপী চলমান যুদ্ধবিরতি বর্তমানে অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (১১ মে) ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানান, এই যুদ্ধবিরতি এখন ‘ম্যাসিভ লাইফ সাপোর্ট’ বা মরণাপন্ন অবস্থায় আছে।
ইরানের প্রস্তাব ও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ইরান গত রোববার যুদ্ধ বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার জন্য ১৪ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘আবর্জনা’ বলে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েও এখন তা থেকে পিছিয়ে যাচ্ছে। ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প আবারও হুঁশিয়ারি দেন যে, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না।
ইরানের অনড় অবস্থান ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাবে অবিলম্বে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা, ইরানি বন্দর থেকে মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়া এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে। ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, যেকোনো আগ্রাসনের উচিত শিক্ষা দিতে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত। অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তেহরানের এই প্রস্তাবকে ‘দায়িত্বশীল ও উদার’ বলে অভিহিত করেছেন।
ইসরায়েলের হুঁশিয়ারি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস এবং ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলে গণ্য করা যাবে না।
বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার পর এপ্রিল মাসে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছিল। বর্তমানে ইরান গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক পথ হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে রাখায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়েই পরিবাহিত হয়।
পাল্টাপাল্টি এই অবস্থানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা এখন চরমে, যা বিশ্ব অর্থনীতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

