ইরানের ইয়াজদ প্রদেশে মাটির ৪২ ফুট নিচে থাকা একটি অবিস্ফোরিত মার্কিন GBU-39 বোমা অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই বোমাটি সফলভাবে নিষ্ক্রিয় করে এর সম্পূর্ণ প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ এখন তেহরানের হাতে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যদি এই বোমার ‘রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং’ করতে সক্ষম হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তির ভারসাম্য নাটকীয়ভাবে বদলে যেতে পারে।
মাত্র ১২৬ কেজি ওজনের এই GBU-39 বোমাটি মূলত মাটির গভীরে থাকা বাঙ্কার ধ্বংস করতে সক্ষম। ক্ষুদ্রাকৃতির হওয়ায় ইরানের ‘ফাত্তাহ’ হাইপারসনিক মিসাইল কিংবা ‘খুররমশাহর’-এর মতো শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো একসাথে একাধিক বাঙ্কার-বাস্টার বোমা বহন করতে পারবে। এর আগে ইরান ইসরায়েলে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালেও প্রাণহানির সংখ্যা ছিল নগণ্য। কারণ হিসেবে দেখা হয় ১৯৯০ সাল পরবর্তী ইসরায়েলি আইন, যার ফলে প্রতিটি বাড়িতে শক্তিশালী আন্ডারগ্রাউন্ড বাঙ্কার নিশ্চিত করা হয়েছে। সাইরেন বাজলেই নাগরিকরা সেখানে আশ্রয় নেয়।
তবে ইরান এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করলে ইসরায়েলের সেই গভীর বাঙ্কারগুলো আর নিরাপদ থাকবে না। বর্তমানে ইরানের হাতে থাকা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তির সাথে এই ‘পেনিট্রেটর’ প্রযুক্তি যুক্ত হলে তা সরাসরি বাঙ্কার ভেদ করে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। এই ঘটনাকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদিও প্রকাশিত ছবিতে GBU-57A/B ম্যাসিভ অর্ডন্যান্স পেনিট্রেটর (MOP) দেখা যাচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞ মহলে ক্ষুদ্রাকৃতির GBU-39-এর উদ্ধার হওয়া নিয়েই বেশি আলোচনা চলছে।

