রিপন মারমা (রাঙ্গামাটি):
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী পদে অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ানকে পুনর্বহালের দাবিতে রাঙ্গামাটিতে বিশাল মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টায় রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থানীয় নাগরিক সমাজের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধন শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি পেশ করেন নেতৃবৃন্দ।
পাহাড়ি ও বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক নারী-পুরুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে মানববন্ধনটি একপর্যায়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দীপেন দেওয়ান শুধু রাঙ্গামাটি আসনেই নয়, সারা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তিনি পাহাড়ি-বাঙালি উভয় সম্প্রদায়ের সমান আস্থাভাজন এবং পার্বত্য অঞ্চলের একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করা সত্ত্বেও দীপেন দেওয়ানকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, শৃঙ্খলা ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারা অব্যাহত রাখতে তাঁর মতো যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে পুনরায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব প্রদান করা এখন সময়ের দাবি।
রাঙ্গামাটি শাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এস এম মঈন উদ্দিন মিন্টুর সভাপতিত্বে এবং রেজাউর রশিদ পাপ্পুর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন রাঙামাটি সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য বাঞ্চিতা চাকমা, জুম অ্যাস্থেটিক কাউন্সিল (জাক)-এর সভাপতি শিশির চাকমা, রাঙামাটি জেলা হেডম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সহ-সভাপতি সুজিত দেওয়ান, সমাজসেবক আমির মোহাম্মদ ছাবের, রাঙ্গামাটি বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রাজীব চাকমা, নারী নেত্রী রাবেয়া সুলতানা, সাবেক শিক্ষিকা গৌরিকা চাকমা, মারমা সাংস্কৃতিক সংস্থার সভাপতি মংসুই প্রু মারমা, অ্যাডভোকেট সুস্মিতা চাকমা, লুমা লুসাই এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি মো. মইন উদ্দিনসহ আরও অনেকে বক্তব্য রাখেন।
”পার্বত্য এলাকার দীর্ঘদিনের স্থিতিশীলতা ও সুষম উন্নয়নের স্বার্থে দীপেন দেওয়ানের কোনো বিকল্প নেই। আমরা আশা করি, এলাকার আপামর জনসাধারণের এই যৌক্তিক দাবিটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করবেন এবং তাঁকে দ্রুত মন্ত্রিত্বে পুনর্বহাল করবেন।”
স্মারকলিপি প্রদান শেষে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, তাঁরা সরকারের ইতিবাচক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন এবং পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি ও অগ্রগতির স্বার্থে এই দাবি অবিলম্বে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান।

