ঈদুল আজহার আনন্দের অন্যতম বড় অংশজুড়ে থাকে কোরবানি। আর এই সময়ে কোরবানির মাংস সংরক্ষণ নিয়ে প্রায় প্রতিটি পরিবারকেই বাড়তি প্রস্তুতি নিতে হয়। দীর্ঘ ছুটি, অতিথি আপ্যায়ন এবং একসঙ্গে বেশি পরিমাণ মাংস সংরক্ষণের কারণে অনেক সময় ফ্রিজ ব্যবস্থাপনায় এক ধরনের অনিয়ম দেখা দেয়।
তবে সঠিক নিয়ম না মানলে মাংসের স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। তাই কোরবানির মাংস দীর্ঘদিন ফ্রেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম মেনে চলা জরুরি।
# ফ্রিজের খাবার আগেই গুছিয়ে রাখা:
কোরবানির অন্তত দুই-একদিন আগেই ফ্রিজ সম্পূর্ণ পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। ফ্রিজে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা পুরোনো বা অপ্রয়োজনীয় খাবার সরিয়ে ফেললে নতুন মাংস সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা তৈরি হয়। একই সঙ্গে ফ্রিজের তাপমাত্রাও ঠিকভাবে বজায় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্রিজ অতিরিক্ত বোঝাই বা ওভারলোড করে ফেললে ভেতরে ঠান্ডা বাতাস ঠিকভাবে চলাচল করতে পারে না। ফলে মাংস দ্রুত নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
#মাংস সংরক্ষণে প্রাথমিক করণীয়:
কোরবানির মাংস ফ্রিজে রাখার আগে অবশ্যই ভালোভাবে রক্ত ঝরিয়ে নিতে হবে। মাংস ধোয়ার পর অতিরিক্ত পানি থাকলে তা সম্পূর্ণ শুকিয়ে নেওয়া জরুরি। ভেজা বা পানিযুক্ত অবস্থায় সংরক্ষণ করলে অতিরিক্ত বরফ জমে মাংসের স্বাভাবিক স্বাদ ও টেক্সচার (গঠন) নষ্ট হয়ে যেতে পারে। পানি শুকানোর পর পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্র কিংবা ভালো মানের ফুড-গ্রেড পলিব্যাগে ভরে ফ্রিজে রাখা উচিত। খোলা অবস্থায় ফ্রিজে মাংস রাখা একেবারেই নিরাপদ নয়।

# ছোট ছোট ভাগে বা ‘ফ্যামিলি প্যাক’ করা:
সব মাংস একসাথে বড় বড় পলিথিনে না রেখে, ছোট ছোট ‘ফ্যামিলি প্যাক’ বা ভাগে ভাগ করে রাখলে ব্যবহার করা সহজ হয়। এতে প্রতিবার রান্নার সময় প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ মাংস বের করা যায় এবং পুরো মাংস বারবার গলাতে (Defrost) হয় না। মনে রাখবেন, একবার গলানো মাংস পুনরায় ফ্রিজে রাখলে এর গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।
#কাঁচা ও রান্না খাবার আলাদা রাখা:
ফ্রিজে কাঁচা মাংস কখনো রান্না করা খাবার, ফলমূল কিংবা সবজির পাশে বা কাছাকাছি রাখা উচিত নয়। কাঁচা মাংসের তীব্র গন্ধ ও অদৃশ্য জীবাণু সহজেই অন্য খাবারে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ জন্য ফ্রিজের ডিপ বা ফ্রিজার অংশে কাঁচা মাংসের জন্য সম্পূর্ণ আলাদা একটি নির্দিষ্ট ড্রয়ার বা তাক ব্যবহার করা ভালো।
# বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজ বেশি না খোলা:
ঈদের সময়ে অনেক সময় বিদ্যুতের লোডশেডিং হতে পারে। বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই অবস্থায় ফ্রিজের দরজা বারবার খোলা একদমই ঠিক নয়। ফ্রিজের দরজা বন্ধ থাকলে দীর্ঘ সময় ভেতরের ঠান্ডা তাপমাত্রা অক্ষুণ্ণ থাকে, যা মাংসকে নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে।
#ফ্রিজে কতদিন পর্যন্ত ভালো থাকে মাংস?
পুষ্টিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়ম মেনে এবং সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হলে কোরবানির মাংস সাধারণত ডিপ ফ্রিজে প্রায় ছয় মাস পর্যন্ত ভালো থাকতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ফ্রিজে রেখে দিলে ধীরে ধীরে এর আসল স্বাদ, গন্ধ ও পুষ্টিগুণ কমতে শুরু করে। তাই পরিবারের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মাংস খেয়ে ফেলা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

