চীনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সফরসঙ্গী পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হয়ে বেইজিংয়ে পা রাখলেন, তা নিয়ে চলছে আলোচনা।
রুবিওর প্রতি বেইজিংয়ের নতুন দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে চীনা ভাষায় তার নাম লেখার পদ্ধতিও বদলে ফেলা হয়েছে। আর এভাবেই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চীনে প্রবেশ করতে পেরেছেন তিনি।
মার্কিন সিনেটর থাকাকালীন রুবিও চীনের মানবাধিকারের পক্ষে জোরালো ভূমিকা রেখেছিলেন। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন তার ওপর দুইবার নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে—যা সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে থাকে।
গত মঙ্গলবার চীন জানায়, ৫৪ বছর বয়সী রুবিওকে তারা দেশে প্রবেশে বাধা দেবে না। তিনি ট্রাম্পের সঙ্গেই এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে প্রথমবারের মতো চীন সফরে আসছেন।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ বলেন, সিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় চীনের বিষয়ে রুবিওর কর্মকাণ্ড ও বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল।
ট্রাম্প যখন রুবিওকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে মনোনীত করেন, তখন থেকেই চীন একটি কূটনৈতিক পথ খোঁজার চেষ্টা করছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
চীনা ভাষায় ইংরেজি ‘র’ ধ্বনির হুবহু উচ্চারণ না থাকায় বিদেশি নামগুলো তারা নিজেদের ধ্বনিগত নিয়ম অনুযায়ী রূপান্তর করে লেখে। এ কারণেই ‘রুবিও’ নামটি চীনা ভাষায় ‘লুবিয়াও’ হিসেবে লেখা হয়।
তবে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে, চীন সরকার ও দেশটির সরকারি সংবাদমাধ্যম রুবিওর নামের প্রথম অংশের প্রতিবর্ণীকরণে (শব্দের উচ্চারণ ঠিক রেখে অন্য ভাষার বর্ণ দিয়ে লেখা) ‘লু’ ধ্বনির জন্য ভিন্ন একটি চীনা অক্ষর ব্যবহার করতে শুরু করে।
দুইজন কূটনীতিবিদ এএফপিকে বলেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে চীন আসলে নিজেদের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার একটি তাৎক্ষণিক উপায় বের করেছে। কারণ, রুবিওর নামের আগের বানানের ওপর ভিত্তি করেই তার প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা ছিল।
কিউবান বংশোদ্ভূত আমেরিকান রুবিও সাম্যবাদের কট্টর বিরোধী। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে মুসলিম উইঘুর সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে দেশটির ওপর যে ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেই আইনের মূল রচয়িতা ছিলেন তিনি। তবে বেইজিং বরাবরই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
হংকংয়ে বেইজিংয়ের দমনপীড়নের বিরুদ্ধেও তিনি সোচ্চার ছিলেন।

