ইয়েমেনের আকাশসীমা লঙ্ঘন বা নতুন কোনো হামলার চেষ্টা করা হলে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দর ও কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে সরাসরি বিধ্বংসী পাল্টা হামলা চালানো হবে বলে তীব্র হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হুথি বিদ্রোহীরা। আজ শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই কড়া বার্তা দেওয়া হয়।
হুথিদের দাবি, সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানগুলো ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তেহরান থেকে আসা একটি ইরানি বেসামরিক যাত্রীবাহী উড়োজাহাজের অবতরণ জোরপূর্বক ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল। তবে হুথি বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে ওই সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোর শক্ত মোকাবিলা করে উড়োজাহাজটিকে নিরাপদে অবতরণ করায়।
‘স্থল ও সমুদ্রে পাল্টা জবাব দেওয়া হবে’ — ইয়াহইয়া সারি
আজ এক বিশেষ ভিডিওবার্তায় হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহইয়া সারি সরাসরি রিয়াদকে লক্ষ্য করে বলেন:
“আমরা অপরাধী সৌদি শত্রুকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সতর্ক করছি। আমাদের পবিত্র আকাশসীমা লঙ্ঘন বা দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে আগ্রাসনের যেকোনো প্রচেষ্টা যদি আবারও পুনরাবৃত্তি করা হয়, তবে স্থল ও সমুদ্রে তাদের (সৌদি আরবের) বিমানবন্দর এবং প্রধান প্রধান গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে আমাদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে কঠোর জবাব দেওয়া হবে।”
ইয়াহইয়া সারি আরও স্পষ্ট করে জানান, যেকোনো ধরনের সামরিক বা রাজনৈতিক পরিণতি সত্ত্বেও সানা ও তেহরানের মধ্যে সরাসরি বেসামরিক বিমান চলাচল আগের মতোই স্বাভাবিক ও অব্যাহত থাকবে।
খামেনির জানাজা থেকে ফিরছিল হুথি প্রতিনিধিদল
এর আগে হুথি-নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সৌদি বাধা ডিঙিয়ে ইরানি যাত্রীবাহী উড়োজাহাজটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করতে সক্ষম হয় এবং পরবর্তীতে সেটি পুনরায় তেহরানের উদ্দেশ্যে ফিরে যায়।
হুথিদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওই বিশেষ বিমানে তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা ছিলেন। তাঁরা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দীর্ঘ চার মাস পর অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রীয় জানাজা ও বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে তেহরানে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফেরার পথেই সৌদি যুদ্ধবিমান তাদের অবরুদ্ধ করার চেষ্টা করে।
সৌদির নীরবতা, পরিস্থিতি যাচাই অসম্ভব
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের এই গুরুতর অভিযোগ ও আকাশযুদ্ধের হুমকির বিষয়ে সৌদি আরবের রয়্যাল ডিফেন্স বা সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া যুদ্ধাবস্থা চলায় নিরপেক্ষ কোনো সূত্র থেকে হুথিদের এই দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তবে পাকিস্তান-মধ্যস্থতায় ইরানের সাথে মার্কিন-ইসরায়েলি যুদ্ধবিরতির আবহ তৈরি হলেও, ইয়েমেন সীমান্তে হুথি ও সৌদির এই নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও নতুন করে যুদ্ধের মেঘ ডেকে আনছে বলে মনে করছেন সামরিক বিশ্লেষকেরা।

