নরসিংদী প্রতিনিধি:
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও জনগণমুখী ও সহজলভ্য করতে সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হাতে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ছয় মাসের মধ্যে দেশের সব ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
একই সঙ্গে কিডনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা স্থানীয় পর্যায়ে নিশ্চিত করতে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন করা হবে, যাতে চিকিৎসার জন্য রোগীদের আর রাজধানীমুখী হতে না হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে কৃষকদের মাঝে উন্নতমানের বীজ, লেবুর চারা ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের পাশাপাশি জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হাসপাতালের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংযোজন এবং বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবা উপজেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ কম খরচে নিজ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু স্বাস্থ্য খাতেই নয়, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে। অসচ্ছল ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ারসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এসব কার্যক্রম চলমান থাকবে।
অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এ মুহাইমিন আল জিহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সরদার তোফাজ্জল হোসেন লিয়াকত, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আমিনুর রহমান সরকার দোলন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজিব মিয়া, মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুনা আক্তার, মনোহরদী পৌর বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল হান্নান, উপজেলা বিএনপির সদস্য মো. গোলাম মোস্তফা, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান সুহাগসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে কৃষকদের মাঝে বিভিন্ন কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়। পরে উপজেলা মিলনায়তনে দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে মানবিক সহায়তার অংশ হিসেবে আর্থিক প্রণোদনা, ঢেউটিন ও শুকনো খাবার বিতরণ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, কৃষক এবং সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।

