মো আলম, বান্দরবান প্রতিনিধি:
টানা ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে বান্দরবান জেলায় পাহাড়ধসের ঝুঁকি তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থানচি, রুমা ও আলীকদম — এই ৩ উপজেলায় উচ্চ সতর্কতা জারি করেছে জেলা প্রশাসন।
সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাখখালী নদীর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেছে। এতে বান্দরবান শহরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত এবং থানচি ও রুমার সঙ্গে নৌ-যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।
বান্দরবান-রুমা ও বান্দরবান-থানচি সড়কে একাধিক স্থানে পাহাড়ধসে যান চলাচল বন্ধ। ফলে থানচির তিন্দু, রেমাক্রী, নাফাখুম ও আমিয়াখুম এলাকায় শতাধিক পর্যটক আটকা পড়েছেন।
নাইক্ষ্যংছড়িতে স্রোতে ভেসে গিয়ে ৫ বছরের এক শিশু আলিয়া সোলতানার মৃত্যু হয়েছে
পর্যটকদের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় ১২ জুলাই রবিবার পর্যন্ত জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র, ঝরনা, পাহাড়ি ট্রেইল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পাহাড়ধস ও বন্যা কবলিতদের জন্য জেলার ৭ উপজেলায় ২২০টি ঘূর্ণিঝড় ও বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকায় মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হচ্ছে।
আক্রান্ত এলাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা দিতে স্বাস্থ্য বিভাগ ৮টি মেডিকেল টিম প্রস্তুত রেখেছে। সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিস ধসে পড়া মাটি সরিয়ে সড়ক চালুর চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি ও চট্টগ্রামে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এ কারণে পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি ঢালে পাহাড়ধসের উচ্চ ঝুঁকি রয়েছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসক মো. সানিউল ফেরদৌস জানান, “ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে”। অপ্রয়োজনে নদীপথে চলাচল ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকতে বলেছে বান্দরববান প্রশাসন।
আবহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সকলকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

