ভারতের ঐতিহাসিক স্থাপনা তাজমহলকে ঘিরে আবারও নতুন আইনি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্মৃতিসৌধটির নিচে প্রাচীন হিন্দু মন্দিরের অস্তিত্ব রয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য জরিপ কেন করা হবে না—এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার ও আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়াকে (এএসআই) নোটিশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট।
মামলার আবেদনকারী পক্ষের নেতৃত্বে থাকা আইনজীবী হরিশঙ্কর জৈনের দাবি, তাজমহল মূলত মোগল সম্রাট শাহজাহানের নির্মিত সমাধি নয়; এটি ভগবান মহাদেবের উদ্দেশে নির্মিত প্রাচীন ‘তেজো মহালয়া’ মন্দির। তাদের ভাষ্য, পরবর্তীতে মোগল শাসনামলে স্থাপনাটি দখল করে এর বর্তমান রূপ দেওয়া হয়।
শুনানিতে আবেদনকারীরা তাজমহল প্রাঙ্গণে হিন্দু ধর্মীয় আচার পালনের অনুমতি এবং একটি আদালত-নিযুক্ত কমিশনের মাধ্যমে স্মৃতিসৌধটির জরিপের আবেদন জানান। এর আগে আগ্রার একটি নিম্ন আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে একই ধরনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি সম্পর্কে প্রচলিত ইতিহাস অনুযায়ী, মোগল সম্রাট শাহজাহান ১৬৩১ থেকে ১৬৫৩ সালের মধ্যে তার স্ত্রী মমতাজ মহলের স্মৃতিতে তাজমহল নির্মাণ করেন।
তবে আবেদনকারী পক্ষের দাবি, তাদের কাছে একাধিক প্রত্নতাত্ত্বিক তথ্য ও নথি রয়েছে, যা তাদের দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে তাজমহলে নামাজ আদায়ের অনুমতি এবং স্থাপনাটির কিছু অংশ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার বিষয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ভারতে রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ মামলার রায়ের পর বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনার আদি পরিচয় নিয়ে একাধিক মামলা হয়েছে। তাজমহল-সংক্রান্ত এই মামলাকেও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এখন কেন্দ্রীয় সরকার ও এএসআইয়ের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে আদালত। মামলার পরবর্তী শুনানিতে এ বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

