আবু জাফর বিশ্বাস, বরিশাল:
শিক্ষকসংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরেই চাপের মধ্যে চলছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষা কার্যক্রম। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অনুমোদিত জনবল কাঠামো অনুযায়ী ২৬০ জন শিক্ষক থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন ২১০ জন। তাঁদের মধ্যে ৬২ জন শিক্ষা ছুটিতে থাকায় নিয়মিত পাঠদান করছেন মাত্র ১৪৮ জন। ফলে ১০ হাজার ১৪৫ শিক্ষার্থীর বিপরীতে গড়ে প্রায় ৭০ জন শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন একজন শিক্ষক, যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত মানদণ্ডের তুলনায় অনেক কম।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৫টি বিভাগের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে শিক্ষকসংকট প্রকট। গণিত বিভাগে ৪৭৩ শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক আছেন ৭ জন, ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগে ৩২০ শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৪ জন, রসায়ন বিভাগে ৫০৪ শিক্ষার্থীর জন্য ৭ জন, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগে ৪০২ শিক্ষার্থীর জন্য ৫ জন, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ৪১৪ শিক্ষার্থীর জন্য ৪ জন এবং আইন বিভাগে ৪২৭ শিক্ষার্থীর জন্য রয়েছেন ৫ জন শিক্ষক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন ও আইন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. কায়সার আহমেদ জয় বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে একজন শিক্ষককে ৫ থেকে ৬টি কোর্স পরিচালনা করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করতে হচ্ছে। সময়মতো শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শিক্ষকসংকটের প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ওপরও। কয়েকজন শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, অনেক সময় শিক্ষকস্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ে ক্লাস হয় না। কখনো শিক্ষকের অপেক্ষায় দীর্ঘ সময় থাকতে হয়, আবার কখনো ক্লাস স্থগিত হয়। এতে পাঠক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সেশনজটের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।
প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রামে অধ্যাপক পদের সংখ্যা ৪৯টি হলেও বর্তমানে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র একজন। তিনি ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মুহসিন উদ্দীন। তাঁর মতে, শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব এবং ইউজিসির কিছু প্রশাসনিক বিধিবিধান দীর্ঘদিন ধরে এ সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে। একই সঙ্গে অতীতে সময়মতো নিয়োগ না হওয়াও বর্তমান পরিস্থিতির একটি কারণ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর চলতি মাসেই নতুন শিক্ষক নিয়োগের চাহিদাপত্র ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, শিক্ষার্থী-শিক্ষক অনুপাত অনুযায়ী আরও শিক্ষক প্রয়োজন। ইউজিসির অনুমোদন পাওয়া গেলে নতুন প্রভাষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
দীর্ঘদিনের শিক্ষকসংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। তাঁদের মতে, প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষক নিয়োগ ছাড়া মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

