সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের নতুনবাজার এলাকার একটি কলার দোকান থেকে বিরল প্রজাতির একটি সবুজ ফণীমনসা সাপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় কিছু সময়ের জন্য দোকানজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রবিবার (২৪ মে) শ্রীমঙ্গল নতুনবাজারের দ্বিতীয় তলায় অনন্ত দেবনাথের কলার দোকানে কলার ছড়ির পাশে সাপ দেখতে পান দোকানের লোকজন। পরে বিষয়টি জানানো হয় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,প্রথমদিকে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সাপটির অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। প্রায় ২০ মিনিটের চেষ্টার পর দোকানের একটি সিন্ধুকের নিচে লুকিয়ে থাকা সাপটিকে খুঁজে পাওয়া যায়। পরে সেটিকে নিরাপদে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
উদ্ধার হওয়া সাপটি ‘সবুজ ফণীমনসা’ বা গ্রিন ক্যাট স্নেক (Boiga cyanea) নামে পরিচিত। এটি বৃক্ষবাসী ও মৃদু বিষধর প্রজাতির সাপ, যার উজ্জ্বল সবুজ রঙ সহজেই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন,ফণীমনসা জাতের সাপ সাধারণত নিশাচর স্বভাবের হয় এবং গাছের ডাল,ঝোপঝাড় কিংবা বাঁশঝাড়ে বসবাস করতে পছন্দ করে। এরা মূলত ছোট পাখি,ব্যাঙ,টিকটিকি ও ক্ষুদ্র স্তন্যপায়ী প্রাণী শিকার করে। মানুষের জন্য এদের বিষ প্রাণঘাতী নয়,তবে সাপের মুখোমুখি হলে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা জরুরি।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, শ্রীমঙ্গল এলাকায় সবুজ ফণীমনসা সাপ প্রায়ই লোকালয় কিংবা কলার আড়তের মতো স্থানে দেখা যায়। বিশেষ করে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান ও আশপাশের বনাঞ্চলে এ প্রজাতির উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য।
তিনি আরও বলেন,বাংলাদেশে মোট সাত প্রজাতির ফণীমনসা সাপ পাওয়া যায়। এর মধ্যে কয়েকটি প্রজাতি শ্রীমঙ্গলের বনাঞ্চলে নিয়মিত দেখা মেলে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় অবস্থিত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান জীববৈচিত্র্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। দীর্ঘ ছয় বছরের জরিপে এ বনাঞ্চলে ৭১টি সরীসৃপ ও উভচর প্রাণীর প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। ফলে লাউয়াছড়া বনকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরীসৃপ অভয়ারণ্য হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

