দীর্ঘ ৩৬ বছরেরও বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও রাজনৈতিক ক্ষমতাসীনের পদে অধিষ্ঠিত থাকা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা অবশেষে তেহরানে শুরু হয়েছে। চার মাস পর আজ তাঁর মরদেহ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তেহরানের ঐতিহাসিক ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নিয়ে আসা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ‘মিডল ইস্ট আই’-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, খামেনির এই অন্তিম বিদায় অনুষ্ঠানে প্রায় ২ কোটি মানুষ অংশ নেবেন বলে জোরালো আশা করছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। যদি এই প্রাক্কলন সত্য হয়, তবে এটি হবে ইরানের আধুনিক ইতিহাসে সর্বকালের সবচেয়ে বড় শেষকৃত্য ও শোকযাত্রা। এর আগে ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় এক কোটি মানুষের সমাগম হয়েছিল।
পরিবারের সদস্য ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের কফিনে শ্রদ্ধা
চলতি বছরের গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের অংশ হিসেবে ইরানের ওপর মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ বাহিনীর এক আকস্মিক ও শক্তিশালী বিমান হামলা চালানো হয়। ওই যুদ্ধের শুরুতেই সপরিবারে নিহত হন ৮base৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। হামলায় খামেনির পরিবারের কয়েকজন সদস্য ছাড়াও ইরানের প্রতিরক্ষা ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান।
আজ শুক্রবার (৩ জুলাই ২০২৬) তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনি এবং তাঁর পরিবারের নিহত সদস্যদের কফিনগুলো যখন সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়, তখন দেশটির বর্তমান সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা, বাসিজ মিলিশিয়া বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদলের সদস্যরা গভীর শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে সমবেত হন।
মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে সমাহিত হবেন খামেনি
কর্তৃপক্ষের ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, তেহরানের এই ঐতিহাসিক বিদায় পর্ব শেষে খামেনির মরদেহবাহী কফিন আগামী কয়েক দিনে ইরান ও ইরাকের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় নগরী (কোম, নাজাফ ও কারবালা) প্রদক্ষিণ করবে।
অবশেষে আগামী সপ্তাহে খামেনির নিজের জন্মশহর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নগরী মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে তাঁর মরদেহ। সেখানে অবস্থিত শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র স্থান ‘ইমাম রেজা মাজারে’ দাফনের মধ্য দিয়েই শেষ হবে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম দীর্ঘ ও আলোচিত এই শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা। খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়

