যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপ বা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কিউবার জনগণ সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-কানেল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। শুক্রবার (৩ জুলাই) তুরস্কভিত্তিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি সাক্ষাৎকারের বিভিন্ন অংশ প্রকাশ করে।
সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কিউবাকে লক্ষ্য করে দেওয়া এক মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় দিয়াজ-কানেল বলেন, ওয়াশিংটন দীর্ঘদিন ধরে গণমাধ্যমনির্ভর প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে কিউবার ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। তাঁর দাবি, এ ধরনের বক্তব্য কিউবার জনগণের মর্যাদাকে খাটো করে এবং আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের নীতির পরিপন্থী।
কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, সম্ভাব্য সামরিক হামলার আশঙ্কাকে তাঁর সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। তবে দেশটি যুদ্ধ চায় না, আবার যুদ্ধের ভয়ও পায় না। প্রয়োজন হলে জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
তিনি কিউবার স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা আন্তোনিও ম্যাসিওর একটি ঐতিহাসিক বক্তব্য স্মরণ করে বলেন, যারা কিউবা দখলের চেষ্টা করবে, তারা সফল হবে না। তাঁর ভাষায়, এটি শুধু একটি স্লোগান নয়, বরং কিউবার মানুষের বিশ্বাস ও জাতীয় চেতনার প্রতিফলন।
দিয়াজ-কানেল আরও বলেন, অতীতে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংঘাতে কিউবার নাগরিকরা আত্মত্যাগ করেছেন। প্রয়োজনে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আরও বড় ত্যাগ স্বীকার করতেও জনগণ প্রস্তুত রয়েছে।
মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে তিনি বলেন, কয়েক দশক ধরে চলা এই অবরোধ কিউবার অর্থনীতি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও স্বাস্থ্য খাতের ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে জ্বালানিবিষয়ক নিষেধাজ্ঞা দেশের সংকট আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
একই সঙ্গে কিউবার মাটিতে চীন বা রাশিয়ার সামরিক ঘাঁটি রয়েছে—এমন অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। তাঁর দাবি, এসব অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
মানবাধিকার ও রাজনৈতিক বন্দিদের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগও নাকচ করে কিউবার প্রেসিডেন্ট বলেন, দেশে রাজনৈতিক মতের কারণে কাউকে কারাবন্দি করা হয়নি। যারা কারাগারে রয়েছেন, তারা প্রচলিত আইনে অপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত।
তবে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলে জানান দিয়াজ-কানেল। তিনি বলেন, পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং কিউবার সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখে কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই আলোচনা হতে পারে। তাঁর বিশ্বাস, নানা সংকটের মধ্যেও কিউবা ভবিষ্যতে এগিয়ে যাবে।

