টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা এক অনন্য বিদ্যাপীঠ ফুলবাগচালা উচ্চ বিদ্যালয়। ফুলবাগচালা ইউনিয়নের একমাত্র এমপিওভুক্ত এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত হলেও এর সাফল্যের শিখর আজ সমতলে ছড়িয়ে পড়েছে। শুধু পাঠ্যবইয়ের শিক্ষা নয়, খেলাধুলা ও উচ্চশিক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়ে চলেছে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
পাহাড়ি জনপদের দুর্গম পরিবেশ জয় করে এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা ক্রীড়া ক্ষেত্রে অসাধারণ নৈপুণ্য প্রদর্শন করেছে। এ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির ঝুলিতে জমা হয়েছে উপজেলা পর্যায়ের ৩২টি পুরস্কার।
আঞ্চলিক পর্যায়ে টাঙ্গাইলের প্রতিনিধিত্ব: টাঙ্গাইল জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে বিদ্যালয়টি বড় আসরে নিজেদের জায়গা করে নেয়। যদিও আঞ্চলিক পর্যায়ের চূড়ান্ত প্রতিযোগিতায় এবার কোনো পুরস্কার পাওয়া সম্ভব হয়নি, তবে তাঁদের খেলার মান ও লড়াকু মানসিকতা পুরো জেলায় প্রশংসিত হয়েছে।

এবারের প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয়ের হয়ে মাঠ মাতিয়েছেন তিন উদীয়মান খেলোয়াড়: রানী, আপন, সীমান্ত।
তাঁরা লং জাম্প, হাই জাম্প, রিলে দৌড় এবং ৪০০ মিটার দৌড়সহ বিভিন্ন ইভেন্টে অংশগ্রহণ করে স্কুলের নাম উজ্জ্বল করেছে। শিক্ষকদের মতে, এই শিক্ষার্থীরাই আগামীর জাতীয় পর্যায়ের তারকা।
ফুলবাগচালা উচ্চ বিদ্যালয় শুধু মাঠের লড়াইয়ে নয়, মেধার লড়াইয়েও অদম্য। স্কুলটির প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বর্তমানে দেশের স্বনামধন্য মেডিকেল কলেজ এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। দুর্গম এলাকায় অবস্থান করেও এই স্কুলটি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে সমাজ পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইউনিয়নের একমাত্র এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে এলাকার মানুষের কাছে এই স্কুলটি এখন আস্থার প্রতীক। স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, পাহাড়ের ঢালে অবস্থিত এই স্কুলটির মাঠের উন্নয়ন এবং সুযোগ-সুবিধা আরও বাড়ানো হলে এখান থেকেই উঠে আসবে আগামীর বিশ্বমানের অ্যাথলেট ও মেধাবী চিকিৎসক-প্রকৌশলীরা।

