সুলতান মাহমুদ, দিনাজপুর:
দিনাজপুরে এক ব্যক্তিকে নিজ বাড়ি থেকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির এক নেতাসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
একই সঙ্গে অপহৃত ব্যক্তিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে গ্রেপ্তার আসামিদের কোতোয়ালি থানায় নেওয়ার পর তাদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের তাৎক্ষণিক প্রতিরোধে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এ ঘটনায় আরও দুইজনকে আটক করে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।আজ মঙ্গলবার দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুন্নবী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন জাতীয় যুব নাগরিক শক্তির রংপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ মুন (২৯), সংগঠনের নেতা হাসিন ইশরাক মিম (২২), আজমির হোসেন (২২), সমজিদুল মিনহাজ (২১) এবং হৃদয় হোসেন (২২)। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার আরিফ মুন দিনাজপুর পৌর এলাকার রামনগর জামাইপাড়া এলাকার মুর্শেদ আলমের ছেলে। হাসিন ইশরাক মিম পশ্চিম বালুবাড়ী এলাকার গোলাম রহমানের ছেলে। আজমির হোসেন মিশন রোড এলাকার বাচ্চু মিয়ার ছেলে। সমজিদুল মিনহাজ বিরল উপজেলার ফরাক্কাবাঁধ এলাকার মোসাদ্দেক হোসেনের ছেলে এবং হৃদয় হোসেন দিনাজপুর শহরের ক্ষেত্রিপাড়া এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার রাত প্রায় ৯টা ৫০ মিনিটে দিনাজপুর সদর উপজেলার শংকরপুর ইউনিয়নের পাঁচমাইল পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এলাকার নিজ খামারবাড়ি থেকে আব্দুস সামাদ (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায় ৮ থেকে ১০ জন দুর্বৃত্ত। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালালেও প্রথমদিকে অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সোমবার সন্ধ্যায় দিনাজপুরের গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযানে অপহৃত আব্দুস সামাদকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে ঘটনাস্থল থেকে একটি সাদা রঙের মাইক্রোবাসসহ আরিফ মুন, হাসিন ইশরাক মিম ও আজমির হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে অপহৃত আব্দুস সামাদের ছেলে বাদী হয়ে অপহরণ ও চাঁদা দাবির অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করলে আটক তিনজনকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এদিকে, গ্রেপ্তারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলয়ের পরিচয়ধারী কয়েকজন নেতা-কর্মী কোতোয়ালি থানায় জড়ো হন। অভিযোগ রয়েছে, তারা পুলিশের গাড়ি থেকে গ্রেপ্তার আসামিদের ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন। তবে পুলিশ ও উপস্থিত স্থানীয় জনগণের বাধায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
পুলিশ জানায়, থানা প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকেই সমজিদুল মিনহাজ ও হৃদয় হোসেনকে আটক করা হয়। পরে তাদেরও একই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
অপহরণের শিকার আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, শনিবার রাতে খামারবাড়ি থেকে তাকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর সারারাত বিভিন্ন স্থানে আটকে রেখে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। ভোরের দিকে একটি কবরস্থানে নিয়ে গিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে অপহরণকারীরা তার কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরে দর-কষাকষির মাধ্যমে ১২ লাখ টাকায় সমঝোতা হয়।
তিনি বলেন, অপহরণকারীরা তাকে বাধ্য করে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে। তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ছেলেকে গোর-এ-শহীদ বড় ময়দানে টাকা নিয়ে আসতে বলা হয়। পরিবারের সদস্যরা টাকা নিয়ে সেখানে পৌঁছালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করে এবং আরিফ মুন, হাসিন ইশরাক মিম ও আজমির হোসেনকে একটি মাইক্রোবাসসহ গ্রেপ্তার করে।
দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুন্নবী বলেন, “অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টার ঘটনাটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

