সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তৈরি হওয়া রহস্যের জট অবশেষে খুলেছে। ভবঘুরের ছদ্মবেশে থাকা ভয়ংকর এক সিরিয়াল কিলারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেলে সাভার মডেল থানা পুলিশ মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’ নামের এই ঘাতককে আটক করে।
রোববার দুপুরে কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে নতুন করে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার হওয়ার পর পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তদন্তে নেমে পুলিশ স্থানীয় এক সাংবাদিকের ধারণ করা ভিডিও এবং আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে। ফুটেজে দেখা যায়, একজন ভবঘুরে ব্যক্তি রহস্যজনকভাবে ওই এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাত্র দুই ঘণ্টার ব্যবধানে সম্রাটকে আটক করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সম্রাট চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে। সে স্বীকার করেছে যে, রোববার উদ্ধার হওয়া দুই জন এবং এর আগে বিভিন্ন সময়ে ঘটা আরও তিন জন—অর্থাৎ মোট পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের সাথে সে সরাসরি জড়িত। এলাকাবাসীর কাছে সম্রাট একজন অতি সাধারণ ভবঘুরে হিসেবে পরিচিত ছিল। সারাদিন চুপচাপ থাকা বা একা একা বিড়বিড় করা এই লোকটির ভেতরে যে এমন নৃশংসতা লুকিয়ে থাকতে পারে, তা ছিল স্থানীয়দের কল্পনাতীত।
সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সিসিটিভি ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাকে শনাক্ত করতে পেরেছি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক খুনের কথা স্বীকার করেছে।” তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সোমবার সম্রাটকে আদালতে তোলা হবে এবং অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হতে পারে।
পরপর পাঁচটি লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার জুড়ে যে উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল, মূল হোতা ধরা পড়ায় জনমনে স্বস্তি ফিরেছে। তবে আনন্দ-উৎসবের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে পরিচিত পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এমন খুনের ঘটনায় স্তম্ভিত এলাকাবাসী এই নৃশংস খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

