কেন্দুয়া (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি:
ভাগ্য বদলের আশায় ঋণ ও ধারদেনা করে মাছ চাষ করেছিলেন নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার সান্দিকোনা ইউনিয়নের ডাউকি দক্ষিণপাড়া এলাকার বাসিন্দা ইসমাইল হোসেনের ছেলে মৎস্যচাষী মো. বাবুল মিয়া। কিন্তু হঠাৎ করেই তার লিজ নেওয়া দুটি ফিসারি পুকুরের প্রায় সব মাছ মারা যাওয়ায় প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।
জানা যায়, প্রায় ১৫ কাটা আয়তনের দুটি লিজ নেওয়া ফিসারি পুকুরে শিং, কই, গুলশা, সিলভার কার্প, মৃগেল, রুই ও কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করেছিলেন বাবুল মিয়া। এসব মাছ চাষে তার মোট বিনিয়োগ ছিল প্রায় ৫০ লাখ টাকা। হঠাৎ একদিন পুকুরের মাছগুলো মারা গিয়ে ভেসে উঠলে তিনি চরম আর্থিক সংকটে পড়েন।
বৃহস্পতিবার( ২ জুলাই) ক্ষতিগ্রস্ত বাবুল মিয়া জানান, গত ১৫ বছর ধরে তিনি মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত। পূর্বে মাছ চাষ করে লাভবান হলেও এবার নিজের সঞ্চয়ের পাশাপাশি ঋণ ও ধারদেনা করে সব অর্থ পুকুরে বিনিয়োগ করেছিলেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে মাছগুলো মারা যাওয়ায় তিনি প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। বর্তমানে পাওনাদারদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা এবং সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে হয়তো আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারব। অন্যথায় এত বড় ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা আমার পক্ষে সম্ভব হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা সুফিয়া আক্তার, কেনু মিয়া, হাসেম মিয়া, বিলকিছ বেগম ও বেদেনা আক্তার জানান, কয়েক দিন আগে বাবুল মিয়ার ফিসারির প্রায় সব মাছ মারা যায়। এতে তার ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা বলেন, এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তার একার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতা পেলে তিনি আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
এদিকে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষী বাবুল মিয়ার পাশে দাঁড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, জনপ্রতিনিধি ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিদের প্রতি মানবিক সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।

