সিলেট প্রতিনিধি:
সিলেট নগরীর রায়নগর এলাকায় বন্ধুর হাতে আরেক বন্ধু খুন হওয়ার চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। নিহত যুবকের নাম জুয়েল (২৬)। তিনি পেশায় প্রাইভেটকার চালক ছিলেন। এই ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক বন্ধু মো. হাবিল (২৫)-কে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। গতকাল রোববার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রায়নগর দপ্তরীপাড়া এলাকার গোয়ালীছড়া খালের পাশে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটে।
নিহত জুয়েল দপ্তরিপাড়ার সাকেরের কলোনীর বাসিন্দা এবং ময়মনসিংহ জেলার গৌরিপুর থানার সিধলা ইউনিয়নের (১০নং) ভেরা এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে ঘাতক হাবিল নগরীর শাহপরান থানাধীন বালুচর এলাকার মো. আলীর ছেলে। স্থানীয়দের দাবি, নিহত জুয়েল ও ঘাতক হাবিল উভয়েই মাদকাসক্ত ছিলেন এবং ‘বন্ধুর বউ’ সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
কুপিয়ে খালে ফেলে দেওয়া হয় জুয়েলকে
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল ও হাবিল ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিলেন। রোববার সকাল ১১টার দিকে রায়নগর দপ্তরীপাড়া এলাকায় তাঁদের দুজনের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি ও মারামারি শুরু হয়। মারামারির একপর্যায়ে হাবিল আচমকা জুয়েলকে টেনে হেঁচড়ে পার্শ্ববর্তী গোয়ালীছড়া খালে ফেলে দেয়। এরপর তার কাছে থাকা ধারালো সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে জুয়েলের গলা, পিঠ ও বুকে উপর্যুপরি আঘাত করতে থাকে।
জুয়েলের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন এবং দ্রুত সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েলকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘাতককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে সোপর্দ
হত্যাকাণ্ডের পর পালিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় জনতা ঘাতক হাবিলকে ধরে ফেলেন। ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দিয়ে আটকে রাখেন এবং পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হাবিলকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের বক্তব্য
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মো. মনজুরুল আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘাতক হাবিলকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে। গণধোলাইয়ে আহত হওয়ায় তাকে চিকিৎসার জন্য ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

