ভারতে নিট-ইউজি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলনের প্রথম দিনেই পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। এমন দাবি করেছেন মধ্যপ্রদেশ সরকারের মন্ত্রী ও বিজেপি নেতা কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।
শনিবার (২৫ জুলাই) ইন্দোরে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলন শুরু হওয়ার পরই ধর্মেন্দ্র প্রধান দলীয় সভাপতির সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, দল চাইলে তিনি সঙ্গে সঙ্গেই পদত্যাগ করতে প্রস্তুত।
তবে সে সময় দলীয় নেতৃত্ব তাকে দায়িত্বে বহাল থাকার পরামর্শ দেয়। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কথা জানিয়ে তখন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তে ধর্মেন্দ্র প্রধান স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন বলে জানান বিজয়বর্গীয়।
তিনি আরও বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধান দায়িত্ব পালনে সততা ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। তার মতে, এই পদত্যাগ একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ছিল। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার মতো অস্থিরতা সৃষ্টি করে ভারতকে অস্থিতিশীল করার একটি ষড়যন্ত্র চলছিল এবং ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্নফাঁসের প্রতিবাদে টানা ৩৬ দিন ধরে চলা আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন আন্দোলনকারীরা।
এদিকে, কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রবীণ বিজেপি নেতা প্রহ্লাদ জোশীকে। ভোক্তা বিষয়ক, খাদ্য ও গণবিতরণ এবং নতুন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজও দেখবেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করে প্রহ্লাদ জোশী বলেন, তিনি বিনয়ের সঙ্গে এ দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধানের নেওয়া বিভিন্ন শিক্ষা সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করবেন।

