কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি:
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পৈত্রিক ও খরিদকৃত জমি বিক্রির বায়না করে টাকা নিয়েও জমি রেজিস্ট্রি না করে উল্টো এক কৃষককে সপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি ও শস্য খেত নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী নূরুল ইসলাম (৪৮) এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে ৭ জুন রাতে কাপাসিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কাপাসিয়া উপজেলার নয়ানগর গ্রামের হাসেম ফকিরের ছেলে নূরুল ইসলাম তার নিজ গ্রাম সংলগ্ন সিংহশ্রী মৌজাস্থিত আর.এস.-১০৯৪ নং খতিয়ান এবং আর.এস.-৯৯৬ নং দাগের মোট ২৫ শতাংশ জমি ক্রয়ের প্রস্তাব দেন। জমিটি স্থানীয় সোহরাব হোসেন কাইয়া (৪৮) এবং আঃ সালামের (৫৫) খরিদকৃত সম্পত্তি ছিল। গত বছরের ২৬ অক্টোবর সকালে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে জমির মোট মূল্য ১৬ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
ওই দিনই শ্রীপুর থানাধীন বরমী বাজার এলাকায় অভিযুক্ত সোহরাব হোসেনের চাউলের দোকানে বসে ১০০ টাকা মূল্যের ‘গছ ১৪১৩৭৩৫’ নং স্ট্যাম্পে একটি বায়নাপত্র স্বাক্ষরিত হয়। অভিযুক্ত আঃ সালামের মধ্যস্থতায় সোহরাব হোসেন নিজ হাতে বায়নাপত্রটি লিখে নগদ ৪ লাখ টাকা গ্রহণ করেন এবং নূরুল ইসলামকে জমির দখল বুঝিয়ে দেন। চুক্তিতে সাক্ষী হিসেবে মজিবুর রহমান খান, মো. ফারুক ভূইয়া ও রুবেলসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন। শর্ত ছিল যে, পরবর্তী ৩ মাসের মধ্যে অবশিষ্ট টাকা পরিশোধ করলে কাপাসিয়া সাব রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে জমিটি সাব কবলা দলিল করে দেওয়া হবে।
জমি দখল বুঝে পেয়ে নূরুল ইসলাম সেখানে বিভিন্ন শাক-সবজি ও ফলজ গাছ রোপণ করেন। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অবশিষ্ট টাকা নিয়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দিতে বললে অভিযুক্তরা টালবাহানা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে টাকা আত্মসাতের অপচেষ্টায় লিপ্ত হন।
সর্বশেষ গত ৬ জুন সকাল ১০টার দিকে নূরুল ইসলাম ওই জমিতে কাজ করতে গেলে সোহরাব ও সালামসহ অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জন দেশীয় অস্ত্র (দা, চাপাতি, ছুরি, লোহার রড, লাঠি) নিয়ে তার ওপর চড়াও হয়। নূরুল ইসলাম জমি রেজিস্ট্রি না করার প্রতিবাদ করলে অভিযুক্ত সোহরাব তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ধারালো দা উঁচিয়ে তাকে হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দেন।
নূরুল ইসলামের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা চলে যাওয়ার সময় জমিতে থাকা প্রায় ৫০ হাজার টাকার ফসল ও ফলজ গাছ কেটে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করে। এছাড়া বিবাদীরা ভুক্তভোগীকে থানায় অভিযোগ করলে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেল খাটানোর হুমকিও প্রদান করে।
ভুক্তভোগী নূরুল ইসলাম ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
বিক্রেতা সোহরাব হোসেন ক্যাইয়া মুঠোফোনে জানান, জমিটি যেহেতু আমি রেজিস্ট্রি করে দেই নাই সে কারণে আমার জায়গা থেকেই আমি গাছগুলো কেটে ফেলেছি, জমি রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেন না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন ,ওই জমির বায়না চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে।
এ বিষয়ে কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসির আহমদ জানান, অভিযোগটি আমলে নেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

