নীলফামারীর সৈয়দপুরে রেলওয়ের জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকাল ১০টায় শহরের গোলাহাট এলাকা থেকে এ অভিযান শুরু হয়। রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, অভিযান মঙ্গলবার পর্যন্ত চলবে।
অভিযানে গোলাহাট এলাকার একটি জলাশয় দখল করে গড়ে ওঠা কয়েকটি বসতঘর বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে রেলওয়ে স্টেশন এলাকা, রাসুলপুর ও গার্ডপাড়া এলাকায় কয়েকটি দোকান ও কোয়ার্টারও উচ্ছেদ করা হয়।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, সৈয়দপুরে রেলওয়ের প্রায় সাড়ে ৮০০ একর ভূসম্পত্তির মধ্যে বড় একটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে দখল হয়ে আছে।
তবে উচ্ছেদ হওয়া কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, তারা নিয়মিতভাবে জমি লিজ নিয়ে রাজস্ব পরিশোধ করলেও তাদের স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেন, একই এলাকায় প্রভাবশালীদের দখলে থাকা অনেক স্থাপনার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের একাংশ অভিযোগ করে বলেন, উচ্ছেদ অভিযানটি পক্ষপাতমূলক এবং লোক দেখানো। তাদের দাবি, প্রভাবশালী মহলের দখলে থাকা স্থাপনাগুলো এড়িয়ে দুর্বলদের ওপর অভিযান চালানো হচ্ছে।
তারা আরও বলেন, রেলওয়ের প্রয়োজনীয় জমি উদ্ধার করা জরুরি হলেও তা যেন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে এবং ন্যায়সংগতভাবে বাস্তবায়ন করা হয়।
উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন পাকশী রেল বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা (ডিইও) সফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে সব অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে এবং যাদের স্থাপনা রয়েছে, তাদের আগেই নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আইন অনুযায়ী এবং নিয়ম মেনে এ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনে অভিযান আরও বাড়ানো হবে।
অভিযানে রেলওয়ে ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ ও প্রশাসনের অবস্থান নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

