তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান আজ পার্লামেন্টে এক দীর্ঘ ও নজিরবিহীন বক্তব্যে ইসরায়েলি সরকারকে লক্ষ্য করে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন, যা ভূ-রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে।
তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠী বর্তমান যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে নস্যাৎ করার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে এবং বিশ্ববাসীর উচিত তাদের এই ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া। গাজার রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির জন্য তিনি বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে “কসাই” হিসেবে অভিহিত করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন, যিনি ইসরায়েলি হুমকির মুখেও ন্যায়ের পক্ষে অবিচল রয়েছেন। এরদোগান দৃঢ় কণ্ঠে ঘোষণা করেন যে, জালেমকে জালেম এবং খুনিকে খুনি বলা তুরস্ক কখনোই বন্ধ করবে না।
এরদোগানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে হলে “প্রতিশ্রুত ভূমির” মোহে আচ্ছন্ন এবং জায়নবাদী এই শাসনব্যবস্থাকে পুরোপুরি উপেক্ষা ও মোকাবিলা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। তিনি অভিযোগ করেন, যখনই শান্তির সামান্যতম সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখনই ইসরায়েল নানা অজুহাতে আগুনের শিখায় জ্বালানি জোগাতে শুরু করে।
মানবতার পক্ষ যখন আগুন নেভানোর চেষ্টা করছে, তখন এই গণহত্যাকারী চক্র তুরস্ক ও স্পেনের মতো শান্তিকামী রাষ্ট্রগুলোকে নির্লজ্জভাবে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে। এরদোগান সতর্ক করে বলেন যে, ইসরায়েল তাদের ভাড়াটে গণমাধ্যম ও কলমবাজদের ব্যবহার করে সত্যের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করলেও সাহসী ও বিবেকবান মানুষদের তারা স্তব্ধ করতে পারবে না।
নিজের ও নিজের দেশের প্রতি হওয়া অপমানের কড়া জবাব দিয়ে এরদোগান মনে করিয়ে দেন যে, তুরস্ক প্রজাতন্ত্র কোনো সাধারণ রাষ্ট্র নয় এবং কোনো শক্তিরই সাহস নেই তুরস্কের প্রেসিডেন্টের দিকে আঙুল তোলার। তিনি এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণে বলেন, প্রতিটি নতুন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে এটিই প্রমাণিত হচ্ছে যে—তুর্কি, কুর্দি এবং আরবদের শত্রু মূলত একই।
যারা গাজার ৭৩,০০০ মানুষের রক্তে নিজেদের হাত রঞ্জিত করেছে, তারাই আজ নির্লজ্জভাবে কুর্দি ভাইদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তুরস্কের নামে অপবাদ ছড়াচ্ছে। এরদোগানের এই ভাষণ মূলত ইসরায়েলের বিরুদ্ধে এক ঐক্যবদ্ধ আঞ্চলিক প্রতিরোধের ডাক, যেখানে তিনি সত্য ও ন্যায়ের লড়াইয়ে কোনো আপস না করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

