সঞ্জয় মালাকার :
হত্যাকারী স্বামী আলমগীর প্রথমে দাবি করেছিলেন, স্ত্রী সৌদি আরবে চলে গেছেন। পরে সেই বক্তব্যের অসঙ্গতি ধরা পড়ে রাজনগর থানার এসআই (নিঃ) অরূপ সরকারের সূক্ষ্ম তদন্তে। ধারাবাহিক জিজ্ঞাসাবাদে ভেঙে পড়ে স্বামী আলমগীর হোসেন।
বেরিয়ে আসে প্রায় ১৯ দিন ধরে ‘নিখোঁজ’ হিসেবে প্রচার করা এক নির্মম হত্যাকাণ্ডের রহস্য। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই নিজ বসতবাড়ির উঠান খুঁড়ে উদ্ধার করা হয় স্ত্রী জায়েদা বেগমের (৩৮) মাটিচাপা মরদেহ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩ জুলাই নিহতের বাবা আব্দুল হান্নান রাজনগর থানায় মেয়ের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্তের দায়িত্ব পান এসআই (নিঃ) অরূপ সরকার।
তদন্তের অংশ হিসেবে ৫ জুলাই আলমগীর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তিনি। প্রথমে আলমগীর দাবি করেন, তার স্ত্রী ১৯ জুন সৌদি আরবে চলে গেছেন। তবে বক্তব্যে অসঙ্গতি, তথ্যের গরমিল এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিগত প্রমাণ বিশ্লেষণ করে এসআই অরূপ সরকারের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। পরে থানায় এনে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আলমগীর হত্যার কথা স্বীকার করেন।
স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, গত ১৭ জুন রাতে এক সহযোগীকে নিয়ে স্ত্রী জায়েদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরদিন নিজ বসতবাড়ির উঠানে গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেন।
সোমবার (৬ জুলাই) সকালে আলমগীরের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নোবেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়ের এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিপুল শিকদারের উপস্থিতিতে রাজনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় স্বামীসহ দুইজন পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

