এমএ আউয়াল আশিক:
ব্যস্ত রাজধানী ঢাকা। সংকীর্ণ সড়ক, বাড়তি যানবাহন আর সীমিত অবকাঠামোর কারণে প্রতিদিনই ভয়াবহ যানজটে আটকে পড়ছেন নগরবাসী। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, রোগী ও শ্রমজীবী—সবারই নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান সময়। এই যানজটের পেছনে অন্যতম বড় কারণ হচ্ছে “গণপরিবহনে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন এবং দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়ার প্রবণতা”।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অধিকাংশ বাসে নির্ধারিত আসন পূর্ণ হওয়ার পরও দাঁড়িয়ে অতিরিক্ত যাত্রী তোলা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বাসের ধারণক্ষমতার চেয়েও কয়েকগুণ বেশি যাত্রী পরিবহন করা হয়। এতে যাত্রী ওঠানামার সময় দীর্ঘ হচ্ছে, সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। অতিরিক্ত যাত্রী তুলতে গিয়ে বাসগুলো সড়কের মাঝখানে বা আঁকাবাঁকা অবস্থানে দাঁড়িয়ে থাকে, ফলে পিছনের যানবাহনের চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং দ্রুত দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
বিশেষ করে অফিস সময় ও সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে এ চিত্র আরও প্রকট হয়ে ওঠে। বাসের জন্য অপেক্ষমাণ যাত্রী তুলতে একাধিক পরিবহন প্রতিযোগিতামূলকভাবে রাস্তার মাঝখানে থেমে যায়। এতে শুধু গণপরিবহন নয়, ব্যক্তিগত গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স ও জরুরি সেবার যানবাহনও আটকে পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যমান আইন অনুযায়ী গণপরিবহনে নির্ধারিত আসনের বাইরে যাত্রী পরিবহনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা গেলে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে কমে আসতে পারে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্টপেজ ছাড়া যাত্রী ওঠানামা বন্ধ, লেন ব্যবস্থাপনা কার্যকর এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নে কঠোর নজরদারির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।
নগরবাসীর অভিযোগ, অতিরিক্ত যাত্রী বহনে কঠোর আইন বাস্তবায়ন করলে কোন প্রতিযোগিতা থাকতোনা। গণপরিবহন খাতে শৃঙ্খলার অভাব এবং তদারকির দুর্বলতার কারণে প্রতিদিন দুর্ভোগ বাড়ছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও নগরজীবনের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

