নগরীর প্রধান সড়কে ফ্লাইওভারের ওপর ধীরগতির যানবাহনের দীর্ঘ সারি, আর নিচে দূরপাল্লার বাসগুলো যাত্রী তোলার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকায় প্রায়ই সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট। সায়েদাবাদ, গাবতলী, মহাখালী কিংবা ফুলবাড়িয়া—ঢাকার বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও আশপাশের এলাকায় এমন দৃশ্য এখন নিত্যদিনের বাস্তবতা।
জনসংখ্যার চাপ, অপরিকল্পিত নগরায়ণ এবং গণপরিবহন ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর সড়কগুলো আগে থেকেই যানজটে জর্জরিত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শহরের বিভিন্ন স্থানে গড়ে ওঠা দূরপাল্লার বাস কাউন্টার ও টার্মিনালকেন্দ্রিক কার্যক্রম। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত টার্মিনালগুলোও ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গত ১৫ জুন রাজধানীর চারটি প্রধান বাস টার্মিনাল—গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী এবং ফুলবাড়িয়া-গুলিস্তান—ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারের মতে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর যানজট অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, বাস টার্মিনাল ও দূরপাল্লার বাস কাউন্টারগুলোকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থার আওতায় আনাই সরকারের লক্ষ্য।
তবে নগর পরিকল্পনাবিদ, পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যক্তিরা বলছেন, পরিকল্পনাটি ইতিবাচক হলেও বাস্তবায়নের পথে বেশ কিছু বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তাদের মতে, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, সংযোগ সড়ক, গণপরিবহন সুবিধা, যাত্রী ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিশ্চিত না করে টার্মিনাল স্থানান্তর করা হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল মিলবে না।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের আগে অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাধান করা জরুরি। অন্যথায় এ উদ্যোগ বাস্তব পরিবর্তনের বদলে কেবল ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ থেকে যেতে পারে।

