ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে রাজধানী তেহরান শোকের আবহে মুখর হয়ে উঠেছে। সমবেত জনতার কণ্ঠে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান ধ্বনিত হতে দেখা গেছে।
শনিবার (৪ জুলাই) সকালে তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল নামে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, অনেক শোকাহত মানুষ হাতে লাল পতাকা বহন করেন, যা ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংস্কৃতিতে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
ভোর থেকেই গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়। রাজধানীর বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও হাজারো মানুষকে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। গণপরিবহন চালু হওয়ার পর তারা দলে দলে জানাজাস্থলের উদ্দেশে রওনা হন।
৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত হন বলে ইরান দাবি করেছে। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান।
প্রথমে মার্চ মাসে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের কারণে তা স্থগিত করা হয়। পরবর্তীতে যুদ্ধবিরতির পর চার মাস পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জানাজা ও দাফনের আয়োজন করা হয়। সাত দিনব্যাপী শোকানুষ্ঠান শুরু হয়েছে শুক্রবার (৩ জুলাই)।
খামেনির শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নিয়েছেন। ইরানের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইরাক, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, ইয়েমেন ও মিসরসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন।
এ ছাড়া রাশিয়া, চীন, ভারত, বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, কিরগিজস্তান, মিয়ানমার, নামিবিয়া, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, নিকারাগুয়াসহ আরও কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিদল তেহরানে অবস্থান করছে।
অনুষ্ঠানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিদের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।

