মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন ও দীর্ঘসময় ধরে চলা লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দের অজুহাতে দিনের পাশাপাশি রাতেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
তীব্র গরমে বৈদ্যুতিক পাখা ব্যবহার করতে না পেরে শিশু, বয়স্ক, অসুস্থ ব্যক্তি, নারী-পুরুষসহ সব বয়সী মানুষকে চরম কষ্টে দিন-রাত কাটাতে হচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই দিনে একাধিকবার এবং রাতের বিভিন্ন সময় দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন রাখা হচ্ছে। অনেক এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। আবার কিছুক্ষণ বিদ্যুৎ থাকার পর পুনরায় লোডশেডিং শুরু হয়। এতে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, চলমান তীব্র গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিও ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষকরা বলছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সাংবাদিক মুহাম্মদ মহসিন আলী বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রমেও বিঘ্ন ঘটছে। অফিসের গুরুত্বপূর্ণ কাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক সেবা কার্যক্রমেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। একই সঙ্গে বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, সেলুন, ফটোকপি, কম্পিউটার সার্ভিস, প্রিন্টিং, মোবাইল সার্ভিসিংসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে”।
চম্পকনগর বাজারের ব্যবসায়ী আশরাফুল ইসলাম জানান, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় গ্রাহকসেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না, ফলে প্রতিদিনই লোকসান গুনতে হচ্ছে”। ফার্ণিচার ব্যবসায়ী হোসাইন আহমেদ বলেন, “নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করার পরও কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়া যাচ্ছে না। যা খুবই দুঃখজনক”। কনফেকশনারি ব্যবসায়ী সফিক ভূইয়া বিদ্যুৎ বিল প্রদর্শন করে বলেন, “সরকার নির্ধারিত বর্ধিত বিল পরিশোধ করা আমাদের মতো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য কষ্টের হলেও পরিশোধ করেছি। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকাটা আরও কষ্টের”। মাওলানা আবদুল কুদ্দুস বলেন, বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমের সময়ে দীর্ঘ লোডশেডিং শিশু ও বয়স্কদের জন্য অসহনীয় হয়ে উঠেছে”। মাওলানা হাফেজ হোসাইন আহমেদ বলেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি”।
এ বিষয়ে বিজয়নগর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ জি এম প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, “বিজয়নগরে ৫৭ হাজার গ্রাহক। বিদ্যুৎ চাহিদা ১৮ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ করা হয় ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লোডশেডিং করতে হচ্ছে”। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করে জনগণের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন ভুক্তভোগীরা।

