পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির এবার প্রায় ৩২ লাখ টাকা মূল্যের কুরবানির পশু কেনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এই সমালোচনার প্রেক্ষিতে ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়ে এর তীব্র প্রতিবাদ ও পারিবারিক অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন মন্ত্রীর ছেলে সারিয়ান চৌধুরী। বিষয়টিকে ‘বট বাহিনীর অযৌক্তিক মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই কুরবানি কেবল তার বাবার একক উদ্যোগে নয়, বরং এটি তাদের যৌথ পারিবারিক এবং প্রাতিষ্ঠানিক ঐতিহ্য।
ফেসবুক পোস্টে সারিয়ান চৌধুরী লিখেছেন, তার বাবা পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং উনার ভাইয়েরা পারিবারিক কোরবানি এবং হাজী বসির উল্যাহ চৌধুরী এতিমখানা-মাদ্রাসার জন্য প্রতিবছর ৬, ৭ বা ৮টি গরু ক্রয় করেন। তারই ধারাবাহিকতায় এই বছরও ওনারা যৌথভাবে ৬টি গরু ক্রয় করেছেন। কেবলমাত্র মন্ত্রী হওয়ার কারণেই তার বাবাকে রাজনৈতিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে এবং সামাজিক মাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই মিথ্যাচার ছড়ানো হচ্ছে বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। একই সাথে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, আজ থেকে ৫০ বছর পর যখন তার বাবা আর মন্ত্রী থাকবেন না, তখনও কি তাদের উত্তরসূরীরা ১০টা গরু দিয়ে কুরবানি দিলে এমন অযৌক্তিক সমালোচনার সম্মুখীন হতে হবে?
সমালোচকদের উদ্দেশ্যে সারিয়ান চৌধুরী আরও মনে করিয়ে দেন যে, কুরবানির এই পশুর মাংসের মূল অংশই মূলত সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন, সবচেয়ে বড় কথা হলো সব গুলো গরুই গরীব মানুষের হক এবং মানুষের হক মানুষের কাছে যথাসময়ে পৌঁছে যাবে। মহান আল্লাহ পাক উত্তম পরিকল্পনাকারী এবং তিনি সব জানেন ও দেখেন বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন মন্ত্রীর ছেলে। মূলত মন্ত্রীর একক বার্ষিক আয়ের সাথে কুরবানির বিপুল খরচের অসামঞ্জস্যতা নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, পরিবারের পক্ষ থেকে এই যৌথ অর্থায়নের ব্যাখ্যার মাধ্যমে তার অবসান ঘটবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

