শাহাদাৎ বাবু, নোয়াখালী সংবাদদাতা
নোয়াখালী সদর উপজেলার এওজবালিয়াতে কাশেম কোম্পানির দোকানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বেশি বলায় গ্রাহকের সাথে বাকবিতন্ডার জের ধরে সংঘটিত মারামারি ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগীরা।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেলে এওজবালিয়া ইউনিয়নের সাহেবের হাট বাজারে আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ প্রতিবাদ জানানো হয়।
এ সময় বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে গিয়ে বর্তমান সরকার বিরোধী একটি গোষ্ঠী জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ও স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে অপপ্রচার করার চেষ্টা করছে। এখানে আসল ঘটনা হলো কাশেম কোম্পানি স্থানীয়ভাবে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও সিলিন্ডার গ্যাস সিন্ডিকেটের অসাধু সদস্য, সাহেবেরহাট বাজারের অসাধু ব্যবসায়ী। ঘটনার দিন স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বৃদ্ধ পিতা গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে গেলে সরকারি মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দাম চাওয়ায় এবং ক্রয়কৃত সিলিন্ডারের মানি রশিদ চাওয়ায় তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। বাকবিতন্ডার সময় খারাপ ব্যবহার ও গালিগালাজের কারণে কিছু সময় পরে বিষয়টি উভয় পক্ষের লোকজনের উপস্থিতিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে মারামারিতে রূপ নেয়। এতে ধস্তাধস্তি ও মারামারিতে কয়েকজন আহত হয়।
ঘটনার বিষয়ে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাজীব আহমেদ জানান, সামান্য হাতাহাতিতে তারা আমাদেরকে চেয়ার দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এরপর নাটকীয়ভাবে অভিযোগ সাজিয়ে কাশেম কোম্পানি আমাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন। কিন্তু এই চাঁদাবাজির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন উদ্দেশ্য প্রণোদিত। বরং তারা আমার বাবা গ্যাস সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে মানি রশিদ চাওয়ায় তারা আমার বাবাকে গালিগালাজ করে অপমান করেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রি না করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য গ্যাস সিলিন্ডারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে নিচ্ছে এই অসাধু ব্যবসায়ী কাশেম কোম্পানি। আমরা বিএনপির রাজনীতি করি বিধায় তারা এখন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই ঘটনার বিষয়ে বাজারের ব্যবসায়ীরা সবাই অবগত আছেন। আমরা এই অসাধু প্রভাবশালী ব্যবসায়ীর বিচার চাই।
সংবাদ সম্মেলনে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বাজার ব্যবসায়ী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ৫ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নুরুল আমীন নুরু জানান, গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয়কে নিয়ে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে তা রাজনৈতিকভাবে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও জোর প্রতিবাদ জানাই। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির যে ঘটনা উল্লেখ করে সংবাদ করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বানোয়াট। ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে আমাদের দলীয় নেতাকর্মীর মানহানি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ ঘটনাটি সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসাহোক।
এওজবালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক জামাল উদ্দিন জানান, “এওজবালিয়া ইউনিয়নে আমরা এতো অত্যাচারিত হয়েছি, নির্যাতিত হয়েছি। কিন্তু ৫ই আগষ্ট পরবর্তী সময়ে আমাদের ইউনিয়নে আ.লীগের নেতাকর্মী কিংবা সাধারণ মানুষদের নিকট চাঁদাবাজি, জমি দখল কিংবা লুটপাটের কোনো একটি ঘটনায় নেতাকর্মীরা জড়িত ছিল না এবং এটার প্রমাণ কেউ দিতে পারবে না। গ্যাস সিলিন্ডার ক্রয় করা নিয়ে বাকবিতন্ডায় জেরে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। এটাকে চাঁদাবাজির ঘটনা আখ্যা দিয়ে যেসব সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও রাজনৈতিক হীন স্বার্থ হাসিল ছাড়া আর কিছুই না।”
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র সহ সভাপতি ডা. বেলাল, সুধারাম থানা শ্রমিক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন, এওজবালিয়া ইউনিয়ন যুবদলের
সদস্য সচিব ইব্রাহিম খলিল, যুগ্ম আহবায়ক মামুনুর রশিদ, শাহাদাত সোহাগ, জাবেদ হোসেন, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এনামুল হক মামুন, সদর উপজেলা ছাত্রদল নেতা রেদোয়ানুল আবেদীন প্রণয়, সাহেবেরহাট বাজার ব্যবসায়ী সোহাগ,মহিউদ্দিন, মাওলানা কাদেরসহ আরো অনেকে।

