সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক তরুণীর সঙ্গে আপত্তিকর সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর-কালীগঞ্জ আংশিক) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে তাঁর বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আজ বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) বিকেল ৪টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন দলের আমীর ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
বৈঠক শেষে দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি গাজী নজরুল ইসলামকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে উঠে আসা অনৈতিক অভিযোগের বিষয়ে দলীয়ভাবে একটি সাংগঠনিক তদন্ত পরিচালনা করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়: “তদন্তে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্রের ৬২ নম্বর ধারা অনুযায়ী তাঁকে দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
এই সিদ্ধান্তের কথা অবিলম্বে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) লিখিতভাবে অবহিত করা হবে বলেও প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।
উল্লেখ্য, গত সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের একটি সিসিটিভি ফুটেজ ছড়িয়ে পড়ে। এটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হলে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে ওই তরুণীকে তাঁর ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ বলে দাবি করেন।
তিনি এক লিখিত পোস্টে জানান, চলতি বছরের ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে ও পারিবারিকভাবে মগবাজারে শ্বশুরবাড়িতে তাঁদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, তাঁর গাড়িচালক ওবায়দুল্লাহ (দ্বিতীয় স্ত্রীর মামা) সিসিটিভি ফুটেজ এডিট করে তাঁর কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। চাঁদা না পেয়ে সামাজিকভাবে চরিত্রহনন ও ব্ল্যাকমেইল করতেই এই ষড়যন্ত্রমূলক ফুটেজ ছড়ানো হয়েছে।
গাজী নজরুল ইসলাম ১৯৯১ এবং ২০০১ সালেও একই আসন থেকে জামায়াতের টিকিটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে দলীয় তদন্তে নৈতিক স্খলনের প্রমাণের ভিত্তিতে এবার তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ছেদ টানল দলটি।

