আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে তা আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই এবং ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।
গত সোমবার (২২ জুন ২০২৬) ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা এই গুরুত্বারোপ করেন।
বৈঠকে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেন, “ভারত চীনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী দেশ। বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরুদ্ধার ও উন্নয়নের ধারায় ফিরে এসেছে।” তিনি উল্লেখ করেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতারা একে অপরকে প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে দেখার বিষয়ে একমত হয়েছেন; যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুস্থ ও স্থিতিশীল বিকাশের জন্য একটি শক্তিশালী কৌশলগত ভিত্তি তৈরি করেছে।
বিশ্বের সর্বাধিক জনবহুল দুই অর্থনীতি হিসেবে চীন ও ভারতের উচিত দীর্ঘমেয়াদি ও বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মূল্যায়ন করা—এমন মন্তব্য করে ওয়াং ই বলেন, “বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলো বর্তমানে সম্মিলিত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্রিকসের (BRICS) বর্তমান ঘূর্ণায়মান চেয়ার হিসেবে ভারতের ভূমিকার প্রতি চীন পূর্ণ সমর্থন জানায় এবং এই ব্যবস্থার সম্প্রসারণে নয়াদিল্লির সঙ্গে একযোগে কাজ করতে আগ্রহী।”
সীমান্ত পরিস্থিতি প্রসঙ্গে চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, উভয় পক্ষের যৌথ প্রচেষ্টায় বিভিন্ন ক্ষেত্রে যোগাযোগ ধীরে ধীরে পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং সীমান্ত অঞ্চলে সামগ্রিকভাবে একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রয়েছে। তবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সামগ্রিক অগ্রগতির জন্য উভয় দেশেরই পরস্পরের মূল স্বার্থকে সম্মান করা এবং সংবেদনশীল বিষয়গুলো যথাযথভাবে পরিচালনা করা উচিত বলে তিনি জোর দেন। একই সাথে বাণিজ্য, অর্থনীতি, আইন প্রয়োগ ও গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংলাপ পুনরায় জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
অন্যদিকে, ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বলেন, ভারত সবসময় কৌশলগত দৃষ্টিকোণ থেকে চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে মূল্যায়ন করে এবং দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের অর্জিত ঐকমত্য বাস্তবায়নে বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত।
বৈঠকে দোভাল বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, গণপ্রজাতন্ত্রী চীনকে (PRC) স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর একটি হিসেবে ‘তাইওয়ান প্রশ্নে’ ভারতের ঐতিহাসিক অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। পাশাপাশি তিনি একে অপরের মূল স্বার্থকে সমর্থন করা, বহুপাক্ষিকতা রক্ষা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার সুরক্ষায় চীনের সঙ্গে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঐতিহাসিক এই বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক বিষয়েও দুই দেশের প্রতিনিধিরা বিস্তারিত মতবিনিময় করেন।

