চীন তাইওয়ানকে ঘিরে সামরিক তৎপরতা আরও বাড়িয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তাইপে। একই সঙ্গে পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে একটি বিমানবাহী রণতরী বহর পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে চীনের নৌবাহিনী, যা নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে আসে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তের দায়িত্ব গ্রহণের দুই বছর পূর্তির আগ মুহূর্তে মঙ্গলবার রাজধানী তাইপেতে এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই।
তিনি বলেন, তাইওয়ান প্রণালি, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল, দক্ষিণ চীন সাগর এমনকি জাপানের আশপাশেও চীন নিয়মিত সামরিক মহড়া চালাচ্ছে। এতে আঞ্চলিক নৌ-চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। তার মতে, চীনের এসব কর্মকাণ্ডই এখন আঞ্চলিক অস্থিরতার প্রধান কারণ।
চীন দীর্ঘদিন ধরে স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে। সম্প্রতি দ্বীপটির ওপর রাজনৈতিক ও সামরিক চাপও বাড়িয়েছে বেইজিং। তবে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে আলোচনার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
অন্যদিকে, চীন তাকে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ আখ্যা দিয়ে আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে।
চীনের নৌবাহিনী মঙ্গলবার জানিয়েছে, ‘লিয়াওনিং’ বিমানবাহী রণতরীর নেতৃত্বে একটি বহর পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরের জলসীমায় মহড়া পরিচালনা করছে, যেখানে গোলাবর্ষণসহ বিভিন্ন সামরিক প্রশিক্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তাদের দাবি, এটি বার্ষিক পরিকল্পনার অংশ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নিয়মিত অনুশীলন।
এদিকে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের দেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে নিজেদের অবস্থান বজায় রাখতে চায় এবং চীনের সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে সংলাপের আহ্বান জানায়।
আগামী বুধবার প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে তার দ্বিতীয় মেয়াদের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ভাষণ দেবেন, যেখানে ভবিষ্যৎ নীতি ও জাতীয় ভিশন তুলে ধরা হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে তাইওয়ান সরকার। বিরোধী দলের সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে প্রতিরক্ষা বাজেটসহ একাধিক সরকারি পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

