গৌরনদী (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বার্থী ইউনিয়নে মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার ওপর হামলা ও দলীয় কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। সোমবার ও মঙ্গলবার দুই দফায় সংঘটিত এসব ঘটনায় বিএনপি নেতা ও তার সহযোগীরা আহত হয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বার্থী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক মো. মিজানুর রহমান মিন্টু (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আসছিলেন। এ নিয়ে ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সহিদুল ইসলাম জুয়েলের (৩০) সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল।
মিজানুর রহমান মিন্টুর দাবি, সম্প্রতি এলাকায় একটি মাদক সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সমাজবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে আসছে একটি চক্র। এতে বাধা দেওয়ায় তাকে নানা সময় হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সোমবার বিকেলে বার্থী বাজারে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে জুয়েলের নেতৃত্বে তাকে লাঞ্ছিত করা হয় এবং কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নেতাদের জানালে আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব ও সদস্য সচিব জহির সাজ্জাত হান্নান রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে উপস্থিত অবস্থায় আবারও হামলার ঘটনা ঘটে। এতে তিনি ও তার সমর্থক মজিবর রহমান আহত হন। পরে তাদের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এদিকে, মিন্টুর সমর্থক মিজান সরদার (৫৫) অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার দুপুরে বাজারে গেলে একই পক্ষের লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে আহত করে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা সহিদুল ইসলাম জুয়েল। তার দাবি, তিনি কোনো মাদক বা সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নন। বরং মিজানুর রহমান মিন্টুই এলাকায় দখল ও চাঁদাবাজির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং মাদক ব্যবসায়ীদের প্রশ্রয় দেন।
গৌরনদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব জানান, তাদের উপস্থিতিতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং ঘটনায় মাদক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারিক হাসান রাসেল বলেন, হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়টি শোনা গেছে, তবে এখনো কোনো পক্ষ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

