মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
ভারত থেকে অবৈধভাবে মানুষ পুশইনের আশঙ্কায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদারের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
শুক্রবার (২৬ জুন) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, আখাউড়া ও কসবা উপজেলার বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির সদস্যদের অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থায় দেখা গেছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রম করে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো না যায়।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে বিজয়নগর উপজেলার নোয়াবদী সীমান্ত দিয়ে সম্ভাব্য পুশইনের আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়লে বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও নির্ঘুম রাত কাটান। সীমান্তজুড়ে ছিল উদ্বেগ ও সতর্কতা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বিজিবি সদস্যরা রাতভর টহল ও নজরদারি অব্যাহত রাখেন।
বিজিবি সূত্র জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর, আখাউড়া ও কসবা উপজেলার প্রায় ৭৩ কিলোমিটার সীমান্ত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে সংযুক্ত। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পুশইনের চেষ্টার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে এসব সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।
২৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জাব্বার আহমেদ বলেন, “দেশের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পুশইনের চেষ্টার খবরের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে কাউকে বাংলাদেশে পুশইন করতে দেওয়া হবে না।”
তিনি আরও জানান, সীমান্ত সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজিবির পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও সতর্ক থেকে যেকোনো সন্দেহজনক তথ্য দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিজিবির কঠোর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার ফলে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ বা পুশইনের যেকোনো চেষ্টা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হবে।

