৪০ দিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে ওমান সাগরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলেও আবারও ইরানি বাহিনীর বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাতে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানি নৌবাহিনীর কঠোর নির্দেশে জাহাজটির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দেওয়া হয়।
ইরান সরকার হরমুজ প্রণালি আংশিক উন্মুক্ত করার ঘোষণা দিলে শুক্রবার রাত ৯টার দিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ বন্দর থেকে নোঙর তোলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। কিন্তু এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি:
রাত ১১:৫০ মিনিট বাংলার জয়যাত্রা সফলভাবে হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ করে। রাত ১২:৩০ মিনিট হঠাৎ ইরানি নৌবাহিনী রেডিও বার্তার মাধ্যমে সব বাণিজ্যিক জাহাজকে ইঞ্জিন বন্ধ করার নির্দেশ দেয়।
আইআরজিসির কড়াকড়ি স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (IRGC) অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজই এই জলপথ অতিক্রম করতে পারবে না।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক এই পরিস্থিতিকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, ইরান প্রণালি খুলে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর কোনো নেতিবাচক বার্তা না আসায় তাঁরা ধরে নিয়েছিলেন পথটি নিরাপদ।
তিনি আরও বলেন, “বাংলার জয়যাত্রার সাথে প্রায় ৪০টি বাণিজ্যিক জাহাজ একই পথে যাত্রা শুরু করেছিল। ভোর ৩টার দিকে ওমান সাগরে পৌঁছে যাওয়ার কথা ছিল আমাদের জাহাজের। কিন্তু হঠাৎ ইরানি নেভির নির্দেশে সবকিছু থমকে গেছে।”
৩১ জন নাবিকসহ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ গত ৪০ দিন ধরে এই অঞ্চলে আটকে আছে। এর আগে ১০ এপ্রিল একবার চেষ্টা করেও তারা প্রণালি পার হওয়ার অনুমতি পায়নি। ফলে বাধ্য হয়ে শারজাহ বন্দরে ফিরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষা করছিল জাহাজটি। কিন্তু নতুন করে এই বাধার ফলে নাবিকদের মানসিক চাপ ও রসদ নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে।
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান আসলে বিশ্বকে দেখাতে চাইছে যে হরমুজ প্রণালির ‘চাবিকাঠি’ সম্পূর্ণ তাদের হাতে।
ইরান আগে ঘোষণা করেছিল যে প্রতিটি জাহাজকে অনুমতি নিয়ে এবং নির্দিষ্ট ফি দিয়ে তাদের নির্ধারিত পথে চলতে হবে। আমেরিকার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।
‘বাংলার জয়যাত্রা’ এখন আবার গভীর সমুদ্রে অনিশ্চিত সময়ের জন্য অপেক্ষা করছে। বাংলাদেশ সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে নাবিকদের দ্রুত উদ্ধার এবং জাহাজটির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের দাবি উঠেছে।

