মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য দেখিয়েছে বাংলাদেশ। সিলেটের আনন্দনিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরহাম জোহান বিশ্বের ১১টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে সর্বোচ্চ সাফল্য অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছেন।
ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিয়াডস বাংলাদেশ (আইওবি)-এর প্রতিনিধিত্ব করে অংশ নেওয়া আরহাম মোট ১৩টি সম্মাননা অর্জন করেন। এর মধ্যে রয়েছে ১২টি আন্তর্জাতিক এবং একটি জাতীয় পর্যায়ের স্বীকৃতি। এই কৃতিত্বের জন্য তিনি প্রতিযোগিতার সেরা পারফর্মার হিসেবে স্বীকৃতি পান।
টিএমপি লিটল সায়েন্টিস্ট রিসার্চ একাডেমির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতার লিখিত পরীক্ষা মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়ায় অনুষ্ঠিত হয়। পরে ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি মালয়েশিয়ায় (ইউটিএম) আয়োজন করা হয় সমাপনী অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী।
ইংলিশ ওয়ার্ল্ড কাপ বিভাগে আরহাম স্বর্ণপদকের পাশাপাশি প্রথম স্থান, প্ল্যাটিনাম অ্যাওয়ার্ড, ডিন অ্যাওয়ার্ড, সেরা উপস্থাপনা এবং বিচারকদের বিশেষ পছন্দের পুরস্কার অর্জন করেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডে তিনি স্বর্ণপদক, দ্বিতীয় স্থান, প্ল্যাটিনাম অ্যাওয়ার্ড, ডিন অ্যাওয়ার্ড, সেরা পরীক্ষামূলক বিজ্ঞানী এবং কাজাখস্তানের বিশেষ সম্মাননা লাভ করেন।
আরহাম জোহান সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ কামাল হোসেন অভি এবং প্রসূতি ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. শাহিনারা ইসলাম মেরিনের সন্তান।
আইওবি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক কামরুদ্দীন নিশান বলেন, আরহামের এই অর্জন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মেধা ও সক্ষমতার উজ্জ্বল প্রমাণ। তার সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক শিক্ষার্থীকে বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে অনুপ্রাণিত করবে।
আইওবি-এর প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক মো. হাবিবুল আলম বলেন, আরহাম শুধু পদকই জেতেনি, গবেষণামনস্কতা, সৃজনশীল উপস্থাপনা ও বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার জন্য আন্তর্জাতিক বিচারকদের বিশেষ প্রশংসাও অর্জন করেছে।
প্রতিযোগিতার পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কিং কার্যক্রমে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন আরহাম।
তার এই সাফল্য আন্তর্জাতিক শিক্ষা অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং দেশের তরুণ শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছে।

