মিয়ানমারের সাবেক নেত্রী অং সান সু চি গুরুতর হৃদরোগজনিত সমস্যায় ভুগছেন এবং তার জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তাঁর ছেলে কিম অ্যারিস। তিনি লন্ডনে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, সামরিক হেফাজতে থাকা মায়ের শারীরিক অবস্থা নিয়ে তিনি ভীষণ উদ্বিগ্ন।
এমনকি সু চি আদৌ জীবিত আছেন কিনা, সেটিও জানার কোনো নির্ভরযোগ্য উপায় নেই।অ্যারিস জানান, প্রায় এক মাস আগে ৮০ বছর বয়সী সু চি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আবেদন করেছিলেন। তবে জান্তা সরকার তার অনুরোধে সাড়া দিয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি বলেন, “সঠিক মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়া হৃদরোগের প্রকৃত অবস্থা জানা সম্ভব নয়। আমি খুবই চিন্তিত।”
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চি হাড় ও দাঁতের সমস্যাতেও ভুগছেন বলে উল্লেখ করেন অ্যারিস। তাঁর দাবি, গত মার্চে একটি ভূমিকম্পে তিনি আহত হয়েছিলেন। এ সময় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় মিয়ানমারের সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তিরও দাবি জানান।
এ বিষয়ে সামরিক সমর্থিত সরকারের কোনো মুখপাত্র কিংবা তথ্য মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে সামরিক অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমার ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মধ্যে রয়েছে। সে সময় সু চিকে আটক করে কারাগারে পাঠানো হয় এবং দুর্নীতি, নির্বাচনী জালিয়াতি ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডসহ নানা অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ২৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে সব অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। অভ্যুত্থানের পর ওই বছরের মে মাসে আদালতে তাকে সর্বশেষ জনসমক্ষে দেখা গিয়েছিল।
এদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরের শেষদিকে জান্তা সরকার ধাপে ধাপে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। তবে সমালোচকদের দাবি, এই নির্বাচন মূলত সেনা সরকারের ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার কৌশল মাত্র। কারণ সু চির দল ও বিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো হয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না, নয়তো আগেই বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। কেবলমাত্র সামরিকপন্থী ও অনুমোদিত দলগুলোই এতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।

