পশ্চিম আফ্রিকার দুই দেশ ঘানা ও আইভরি কোস্টে কয়েক দিনের টানা ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকলেও এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ থাকায় মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
ঘানার রাজধানী আক্রায় পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দেশটির জাতীয় ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, সোমবার শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টির পর মঙ্গলবার পর্যন্ত অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, এখনও কয়েকজনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।
অবিরাম বৃষ্টিতে আক্রার বিভিন্ন সড়ক, আবাসিক এলাকা ও নিচু অঞ্চল পানিতে ডুবে যায়। রাতভর অভিযান চালিয়ে শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৪০০ জনেরও বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি প্লাবিত এলাকা থেকে পানি সরানো এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় জরুরি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
ঘানার জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, বৃষ্টির শুরু থেকেই বাসিন্দারা ঘরে পানি ঢুকে পড়ার অভিযোগ জানিয়ে জরুরি সহায়তা চেয়েছেন। সংস্থাটির কর্মকর্তাদের মতে, অনেক এলাকাই পুরোপুরি প্লাবিত হয়ে পড়েছে এবং পরিস্থিতি উদ্বেগজনক।
এদিকে প্রতিবেশী আইভরি কোস্টেও শনিবার থেকে শুরু হওয়া ভারি বর্ষণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ না করলেও দমকল বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সেখানে প্রায় ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ঘানার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ মুনতাকা মোবারক বলেছেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও ভালো প্রস্তুতি থাকলে ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হতো। অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট জন মাহামা জানান, প্রাথমিক হিসাবে রাজধানী আক্রায় প্রায় ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা গত বছরের সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি।
তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বেড়েই চলেছে। তবে জলপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এমন অবৈধ স্থাপনার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে আবহাওয়া বিভাগ চলতি সপ্তাহেও ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়ে রাজধানীসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।

