পাকিস্তানের বাণিজ্যিক রাজধানী করাচিতে আধা-সামরিক বাহিনী ‘সিন্ধু রেঞ্জার্স’-এর সদর দপ্তরে এক ভয়াবহ ও আত্মঘাতী সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত তিন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিরোধে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে চার সন্ত্রাসীও নিহত হয়েছে বলে দেশটির পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
গতকাল শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) সন্ধ্যায় করাচির পূর্বাঞ্চলের জনবহুল গুলিস্তান-ই-জওহর এলাকায় অবস্থিত রেঞ্জার্সের এই আঞ্চলিক সদর দপ্তরে হামলার ঘটনাটি ঘটে। কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আলজাজিরা-র এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
সিন্ধু পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) জাভেদ আলম ওধো গণমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী হামলাকারীরা ভারী অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে এসেছিল। তারা প্রথমে বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরের মূল প্রবেশদ্বারে (প্রধান ফটক) সজোরে আঘাত করে। ফটক ভেঙে যাওয়ার পর গাড়ি থেকে নেমে অন্তত চারজন ভারী অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে ছুড়তে সদর দপ্তরের ভেতরে ঢুকে পড়ে।
তবে মূল ফটকে আঘাতের সময় গাড়িটিতে কোনো বড় বিস্ফোরণ ঘটেছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
ভয়াবহ এই হামলার পরপরই করাচি জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়। আশপাশের পুরো এলাকা সিলগালা করে দেয় নিরাপত্তা বাহিনী। সদর দপ্তরের ভেতরে আটকে পড়া সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট (SSU), অ্যান্টি-টেররিস্ট ফোর্স (ATF) এবং রেঞ্জার্স কমান্ডোরা।
কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা তীব্র বন্দুকযুদ্ধ ও যৌথ অভিযানের পর ৪ হামলাকারীকে খতম করা হয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, সদর দপ্তর ও এর আশপাশের এলাকায় চিরুনি অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো সশস্ত্র বা উগ্রপন্থী সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
এই ন্যাক্কারজনক হামলার পর সিন্ধু প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী সৈয়দ মুরাদ আলি শাহ গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছেন। তিনি করাচির পুলিশ প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাকে বিস্ফোরণ ও গুলির ঘটনার একটি বিস্তারিত ও নিখুঁত প্রতিবেদন দ্রুত জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের পাশাপাশি করাচির মতো বড় শহরগুলোতেও দেশটির আইন প্রয়োগকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন গোষ্ঠী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সশস্ত্র হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

